আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে অসহায় এক ব্যক্তির জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে,কেরানীগঞ্জ উপজেলার পারগেন্ডারিয়া এলাকার ভূমিদস্যু কামাল । এলাকার মানুষের কাছে এই ভূমিদস্যু জমির দালাল হিসেবে পরিচিত। এই কামালের খপ্পড়ে পড়ে ঘর ছাড়ছে অনেকেই। সব হারিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে অসহায় একাধিক পরিবার।
সম্প্রতি কেরানীগঞ্জ পারগেন্ডারিয়া মসজিদ গলির এলাকার জনৈক হাজী মোহাম্মদ শুকুর মিয়ার ১,৫০ শতাংশ সাব কবলা কৃত জমি জোরপূর্বক উচ্ছেদ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভূমিদস্যু কামাল ও তার সহযোগীরা।উক্ত জমিতে মহামান্য আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ভূমিদস্যু চক্র জমিতে থাকা ঘরগুলো ভেঙ্গে ফেলার অপচেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন। ভূমিদস্যু চক্রের সদস্যদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে শুকুর মিয়া। সুবিচার পাওয়ার আশায় প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ওই ব্যক্তি।
ভুক্তভোগী শুকুর মিয়া জানান, এই বাড়িটি গত ০৭-০৫-০২ সালে মোহাম্মদ শাহজাদা নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৩০০০০ হাজার টাকায় আমি এবং কামাল যৌথভাবে ৩ শতাংশ জমি সাফ কবলা ক্রয় করি। এবং কয়েক বছর আমরা একসাথে উক্ত জমি অর্ধেক ভাগে ভাগাভাগি করে, যার যার জমিতে স্থায়ী বসবাস করি। কিন্তু হঠাৎ করে দেখা যায়। এই ভূমিদস্যু কামাল পুরো বাড়ির দাবি করেন এবং আমার অর্ধেক জমিতে থাকা রুম রাতের অন্ধকারে ভেঙ্গে তিনি গেট বানান।ও আমাকে বিভিন্ন প্রকার সন্ত্রাসী বাহিনী সহ স্থানীয় ফাড়ির এ এস আই জাকির হোসেনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায়কে কেন্দ্র করে হুমকি-ধামকি দিয়ে যাচ্ছে। অবশেষে আমি এই ভূমিদস্যুর সাথে কোনভাবে না পেরে মহামান্য আদালতে মামলা দায়ের করি যাহার দেওয়ানী মামলা নং ৩৬৭/২২উক্ত মামলায় মহামান্য আদালত এই জমির উপরে নিষেধাজ্ঞাও জারি করেন। এছাড়াও কামাল মহামান্য আদালতে আমার সিগনেচার জাল জালিয়াতি করে রেকর্ড সংশোধনের একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলার কোনো ভিত্তি নেই মৃত ব্যক্তিদের বিবাদী করে মামলাটি দায়ের করেন।
এছাড়াও মহামান্য আদালতে শুকুর মিয়া দায়ের করা মামলার নিষেধাজ্ঞার আদেশ নামায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে,সম্পত্তি সংক্রান্তে বাদী ও বিবাদীর নামীয় সত্ত্বের দলিল ও নামজারি আদালতে দাখিল করেছেন।অর্থাৎ বাদী ও বিবাদী একই দলিলে মালিক হয়েছেন,এবং তৎমর্মে নামজারী ও করেছেন। বাদীর দাবি ও দাখিলকৃত কাগজাদি পর্যালোচনায় বাদীর দরখাস্তে প্রাইমাফেসী কেইস রয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়। বিবাদী যদি নালিশী সম্পত্তি তে নির্মাণ কাজ করে তাহলে বাদীর অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে। এমতোঅবস্থায় অত্র অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দরখাস্তটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নালিশী সম্পত্তির আকার-প্রকার পরিবর্তন ও হস্তান্তরের বিষয়ে বিবাদীপক্ষ কে অন্তর্বর্তীকালীন (ad interim) নিষেধাজ্ঞার আদেশ দ্বারা বারিত করা হলো।
এ ব্যাপারে কামাল মিয়া জানান, উক্ত জমি আমার সেক্ষেত্রে আমি মহামান্য আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছি। জমি দখলের বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমার জমি আমার দখলেই তো থাকবেএটাই স্বাভাবিক। শুকুর মিয়া জমি দাবি করলে আদালতের মাধ্যমে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে জমি নিবেন।
Leave a Reply