সাম্প্রতিক সময়ে সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল এবং বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচারিত জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসন (নিটোর) পঙ্গু হাসপাতালের ওয়ার্ডমাস্টার নুর মোহাম্মদের ভিডিও ক্লিপ “কুরবানির ঈদের আগেই সাংবাদিককে মেরে ফেলার হুমকি”র প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে সাংবাদিকরা।
২৫ জুন (রোববার) বেলা এগারোটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন করেন সাংবাদিক সমাজ।
এসময়, চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়া নুর মোহাম্মদের প্রতারণার শিকার হওয়া চাকুরিপ্রত্যাশী ভূক্তভোগীরাও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা ওয়ার্ড মাস্টার নুর মোহাম্মদের খুঁটির জোর কোথায়- তারও তদন্তের দাবি জানান।
এদিকে, জামালপুরের বকশিগঞ্জের সাধুরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক সদ্য নিহত সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিমের অভিযোগ আমলে নিয়ে বকশিগঞ্জ থানাপুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে সাংবাদিক নাদিম খুন হতেন না তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শের-ই-বাংলানগর থানা পুলিশকে সাংবাদিক জাহিদ হাসান মিশুর হামলাকারী ও হুমকিদাতাকে দ্রুত আটকের দাবি জানানো হয় মানববন্ধন থেকে।
সাংবাদিকের উপর হামলা এবং প্রকাশ্যে সাংবাদিককে হুমকি দেয়ার পরেও পুলিশ কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না তারও নিন্দা জানানো হয় মানববন্ধনে।
এসময় হামলা ও হুমকির শিকার হওয়া সাংবাদিক জাহিদ হাসান মিশু বলেন, গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৩ইং রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানাধীন জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে আটজন ব্যক্তির সুনির্দিষ্টি প্রতারণার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমার অনুসন্ধানে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। উক্ত সংবাদটি প্রকাশিত হবার পর সাংবাদিক জাহিদ হাসান মিশুকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হয়।
শুধু তাই নয়, গত ১৩ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শেরে বাংলা নগর থানাধীন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে জাতীয় অর্থোপেডিক পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার নূর মোহাম্মদ তার সন্ত্রাসী দালাল সিন্ডিকেট দ্বারা সাংবাদিক জাহিদ হাসান মিশুর উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। সাংবাদিক জাহিদ হাসান মিশুকে বেধরক পেটানো হয় ও সাংবাদিকের কাছে থাকা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। প্রধান হামলাকারী ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর শেরে বাংলা নগর থানাধীন ২৭ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত ১ নং গণভবন ইউনিট আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাসিনা বেগম! হাসিনার সাথে ছিল তার ভাই সন্ত্রাস দালাল বাবু সহ আরো অনেকেই। উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক জাহিদ হাসান মিশু শেরে বাংলা নগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শেরেবাংলা নগর থানার এস আই আনোয়ার সরেজমিনে তদন্ত করতে ঘটনা স্থানে যায়। সুষ্ঠু তদন্তের নামে সাংবাদিক জাহিদ হাসান মিশুর সাথে করা হয় প্রতারণা এমন অভিযোগও করেন তিনি। সেখানে অপরাধীদের দোষী সাব্যস্ত না করে উক্ত ঘটনাকে সেখানেই তারা ধামাচাপা দেয়। এ বিষয়ে কিছুদিন যেতে না যেতেই শেরে বাংলা নগর থানাধীন জাতীয় অর্থোপেডিক পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার নুর মোহাম্মাদ জনসম্মুখে বলেন আমার বিরুদ্ধে যে সাংবাদিক নিউজ করেছিল আমি সেই সাংবাদিক কে আমার সন্ত্রাস দালাল বাহিনী দিয়ে মেরে ফেলার জন্য আক্রমণ করেছিলাম। তাতে সে বেঁচে ফিরে। কিন্তু, এবার সেই সাংবাদিক কে আসছে- কোরবানি ঈদের আগেই ঐ সাংবাদিককে মেরে ফেলবো বলে প্রকাশ্যে হুমকি দেয়। যার ভিডিও চিত্র ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাটি তৎক্ষণাৎ সকল গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক জাহিদ হাসান মিশু শেরে বাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ উৎপল কুমার বড়ুয়ার কাছে ২১/০৬/২৩ইং গিয়ে সমস্ত ঘটনা খুলে বললে তৎক্ষণাৎ অফিসার ইনচার্জ প্রাণ নাশের হুমকির জিডি নিলেও আজ অব্দি কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।
উক্ত বিষয়ে তদন্তের জন্য এসআই আখতারুজ্জামানকে তদন্তভার দেয়ার পরেও পুলিশের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ লক্ষ্য করা যায় নি। প্রশ্ন জাগে, হামলাকারী ও হত্যার হুমকিদাতার খুঁটির জোর কোথায়! পুলিশ কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না! কারণ কি! পুলিশের এমন নিরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললে অপরাধ হবে না নিশ্চই! হামলার পরে অভিযোগও আমলে নেয়নি পুলিশ। অভিযোগ আমলে নিলে হত্যার হুমকি দেয়ার সুযোগ পেত না। হত্যার হুমকির পরে আবারো জিডি করা হয়েছে। তবুও পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করছে। নুর মোহাম্মদের ক্যাডার বাহিনী সাংবাদিক জাহিদের বাসার চারপাশে ঘোরাঘুরি করছে। বলছে- ঈদের আগেই মেরে ফেলবে। আমার কিছু হলে শের-ই-বাংলানগর থানাপুলিশ দায়ী থাকবে বলেও জানান সাংবাদিক জাহিদ হাসান মিশু।
তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে শের-ই-বাংলানগর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আকতারুজ্জামান দৈনিক আমার সময়-কে বলেন, এখনো তদন্ত শুরু হয়নি। আমরা উভয়পক্ষকে ডাকবো। বিস্তারিত শুনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply