ইসলামীবিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলে বহুল আলোচিত নবীন ছাত্রী ফুলপরী খাতুনকে র্যাগিংয়ের নামেনির্যাতনের ঘটনার ৫ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর চুড়ান্তসিদ্ধান্ত দিয়েছেবিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
নির্যাতনের সাথে জড়িত বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদা চৌধুরী অন্তরা সহ চার সহযোগীকে ১ বছরের জন্য বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে এ সিদ্ধান্তে সঠিক বিচার পাননি বলে জানিয়েছেন নির্যাতিতা ফুলপরী খাতুন।
শনিবার (১৫ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের ২০২ নং কক্ষে অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে নেয়া সিদ্ধান্তের পর গণমাধ্যমের কাছে নিজের অসন্তোষের কথা জানান। এসময় তিনি নিজের আতঙ্কের কথাও জানান।
ফুলপরী খাতুন বলেন, ‘তারা আমার উপর যে পরিমাণ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে তাতে তাদের এক বছরের শাস্তি কোনো ভাবেই হতে পারেনা। এতে আমি সন্তুষ্ট না বরং আরো আতঙ্কিত। কারণ, তারা একবছর পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে এসে আমার প্রতিশোধ নিবেনা তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আর আমি মনে করি, আমি সঠিক বিচার পাইনি। আমি চাই তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার হোক।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানাযায়, শনিবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুসসালামের সভাপতিত্বে শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, পরিক্ষানিয়ন্ত্রকসহ শৃঙ্খলাকমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতে দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের ছাত্রী ফুলপরি খাতুন নির্যাতনের ঘটনায় চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি এবং হাইকোর্টের নির্দেশ করা তদন্ত করা কমিটির প্রতিবেদন আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট কোডঅব কোন্ডাক এর আলোকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্তরাসহ অভিযুক্ত পাঁচজনের প্রত্যেককে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্টস কোডঅবকন্ডাক্ট-১৯৮৭ এরপার্ট-২ ধারা-৮ মোতাবেক সর্বোচ্চশাস্তি এক (১) বছরের জন্য ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়।
অন্তরাসহ বহিষ্কার আদেশ পাওয়া পাঁচ অভিযুক্তশিক্ষার্থী হলেন হলেন ফিন্যান্সঅ্যান্ডব্যাংকিং বিভাগের তাবাসসুম ইসলাম ও মোয়াবিয়া জাহান, আইনবিভাগের ইসরাত জাহান মীম ও চারুকলা বিভাগের হালিমা খাতুন উর্মী। চার জন ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অপরদিকে অন্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
তবে এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের মন্তব্য জানতে তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ১১ ও ১২ই ফেব্রয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলে দুই দফায় ফুল পরী নামের এক নবীন ছাত্রীকে রাত ভর নির্যাতন ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠে শাখা ছাত্রলীগসহ-সভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিংবিভাগের তাবাচ্ছুম ও মোয়াবিয়া, আইনবিভাগের ইসরাত জাহান মীম ও ফাইন আর্টস বিভাগের হালিমা খাতুন উর্মীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, হল প্রশাসন ও শাখা ছাত্রলীগ এবং হাইকোর্ট কতৃক পৃথক পৃথক ভাবে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। সেই সাথে এ ঘটনায় হাইকোর্টে রিট হয়। ফলে হাইকোর্টের নির্দেশে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছেকুষ্টিয়া জেলাপ্ রশাসন। পরে তদন্ত প্রতিবেদনে নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা উঠে এলে অভিযুক্তদের হল এবং শাখা ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। সেই সাথে তাদেরকে উচ্চ আদালতের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়।
Leave a Reply