1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
‎৩০ এপ্রিলের পর জুয়া-মাদকবিরোধী অভিযান চট্টগ্রামে বাস্তবায়ন নিয়ে আশাবাদ ও প্রশ্ন - দৈনিক আমার সময়

‎৩০ এপ্রিলের পর জুয়া-মাদকবিরোধী অভিযান চট্টগ্রামে বাস্তবায়ন নিয়ে আশাবাদ ও প্রশ্ন

জাকারিয়া হোসেন, চট্টগ্রাম
    প্রকাশিত : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

দেশব্যাপী জুয়া, অনলাইন জুয়া, মাদক, সীসা বার ও লাউঞ্জ বন্ধে ৩০ এপ্রিলের পর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে সরকারের ঘোষিত সম্মিলিত বিশেষ অভিযান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদের কঠোর বার্তার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এলেও, চট্টগ্রাম মহানগরে এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে। চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক ও বন্দরনির্ভর নগরী হওয়ায় এখানে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক, অনলাইন জুয়া, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং বিভিন্ন আড়ালে পরিচালিত অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বন্দর, পতেঙ্গা, ইপিজেড, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, হালিশহর,পাঁচলাইশ, কর্ণফুলী, পাহাড়তলী, আকবর শাহ ও বায়েজিদ বোস্তামীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে ঘিরে এসব অপরাধচক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপকভাবে আলোচিত।

 

‎নগরীতে অতীতে একাধিকবার অভিযান পরিচালিত হলেও বাস্তব চিত্রে তেমন পরিবর্তন আসেনি, এমন অভিযোগও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিযান চলাকালীন কিছুটা কঠোরতা দেখা গেলেও পরবর্তীতে তা শিথিল হয়ে যাওয়ার ফলে মাদক ও জুয়ার পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতাও আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে দাবি স্থানীয়দের। এ অবস্থায় ঘোষিত নতুন এই সমন্বিত অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে নতুন আশার আলো এবং অপরদিকে বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন। বিশেষ করে অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক, মাদক সরবরাহ চক্র, বন্দরকেন্দ্রিক চোরাচালান এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার, এসব নিয়ন্ত্রণ কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র অভিযান ঘোষণা বা তদারকি বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না। বরং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমন, অর্থনৈতিক চেইন ভেঙে দেওয়া এবং স্থানীয় পর্যায়ের প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান না নিলে পরিস্থিতি আগের মতোই থেকে যেতে পারে।

 

 

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) একাধিক সূত্র জানায়, নগরীর স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি, কিশোর গ্যাং শনাক্তকরণ এবং তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

 

‎সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই অভিযানের সফলতা নির্ভর করবে তিনটি মৌলিক বিষয়ের ওপর-

 

‎প্রথমত, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দৃঢ়তা,

 

‎দ্বিতীয়ত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ও ধারাবাহিক অভিযান,

 

‎এবং তৃতীয়ত, স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতি ও প্রভাবমুক্ত বাস্তবায়ন। তাদের মতে, বন্দর, পতেঙ্গা, ইপিজেড, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, হালিশহর,পাঁচলাইশ, কর্ণফুলী, পাহাড়তলী, আকবর শাহ ও বায়েজিদ বোস্তামীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে যদি ধারাবাহিক নজরদারি ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে মাদক, জুয়া এবং কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য আগের মতোই থেকে যেতে পারে। এদিকে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এই অভিযান যেন কেবল ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনে। চট্টগ্রাম মহানগরসহ সারাদেশে জুয়া, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর, কঠোর ও ধারাবাহিক পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত সামাজিক পরিবেশ গড়ে উঠবে, এমনটাই প্রত্যাশা জনমনে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com