1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
শ্রীপুরে ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়ে শিশুপুত্রসহ স্কুল শিক্ষকের স্ত্রীর আত্মহনন - দৈনিক আমার সময়

শ্রীপুরে ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়ে শিশুপুত্রসহ স্কুল শিক্ষকের স্ত্রীর আত্মহনন

আলফাজ সরকার,গাজীপুর
    প্রকাশিত : শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬

গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে শিশুপুত্রকে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে মিতি রানী দাস নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। তিনি একটি স্কুলের সহকারি শিক্ষকের স্ত্রী।

শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পিবিআই। এরআগে, এইদিন সকালের দিকে উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের রাজেন্দ্রপুর রেলওয়ে স্টেশনের দক্ষিণ আউটার সিগন্যালে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের চিনাশুকানিয়া গ্রামের স্কুলশিক্ষক হরেকৃষ্ণের স্ত্রী মিতি রানী দাস (৩৫) ও ছেলে রুদ্র দাস (৪)।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার সকালের দিকে রেললাইন ঘেঁষে রাজেন্দ্র সেনানিবাসের বিপসটের পেছনে এক নারী শিশুকে নিয়ে বসে ছিলেন। এর কিছু সময় পর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন এলে হঠাৎ ওই নারী শিশুটিকে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন। ঘটনাস্থলেই নারীর মৃত্যু হয়। শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় বাসিন্দারা গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

চিনাশুকানিয়া গ্রামের বাসিন্দা কাদির হোসেন বলেন, দেবর প্রাণকৃষ্ণের কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। এটা তো তেমন বড় পারিবারিক কলহ নয়। এই অভিমানে হরেকৃষ্ণের স্ত্রী মিতি রানী শিশুপুত্রকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গিয়েছেব। সন্ধ্যার দিকে পুলিশ বাড়িতে এলে বিষয়টি জানাজানি হয় যে তাঁরা মারা গেছেন।’

অভিযুক্ত প্রাণকৃষ্ণের নম্বরে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি।

নিহত নারীর স্বামী হরেকৃষ্ণের নম্বরে ফোন করলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তাই বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

রাজাবাড়ি ইউপি সদস্য( সংরক্ষিত) তাহারিন সাফফাত জেরিন বলেন, ‘ দেবর প্রাণকৃষ্ণের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। এরপর শিশুসহ বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যান মিতি রানী। এই অভিমানে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে ওই নারী আত্মহত্যা করতে পারেন বলে পারিবারিকভাবে জানতে পারছি।’

জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) কাইয়ুম আলী জানান,’ রেললাইনের ওই অংশে ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন মিতি রানী দাস ও তাঁর ছেলে রুদ্র দাস। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান মিতি রানী। শিশু ছেলে রুদ্র দাসকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলের দিকে মৃত্যু হয় তার। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে নিহত ব্যক্তিদের লাশ উদ্ধার করে। তবে মা-ছেলে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন কি না, তা জানা যায়নি। তিনি আরও বলেন, সকালের দিকে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ার ঘটনা ঘটলেও তাঁদের পরিচয় শনাক্ত হয়নি। পরে জানাজানি হলে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত হয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com