1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
শুরু হলো চসিকের ‘মহান স্বাধীনতা বইমেলা-২০২৬ ‎নৈতিক সমাজ গঠনে বই পড়ার বিকল্প নেইঃ মেয়র ডা. শাহাদাত - দৈনিক আমার সময়

শুরু হলো চসিকের ‘মহান স্বাধীনতা বইমেলা-২০২৬ ‎নৈতিক সমাজ গঠনে বই পড়ার বিকল্প নেইঃ মেয়র ডা. শাহাদাত

‎জাকারিয়া হোসেন, চট্টগ্রাম
    প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬

মহান স্বাধীনতার মাস উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)-এর উদ্যোগে শুরু হয়েছে ১৯ দিনব্যাপী মহান স্বাধীনতা বইমেলা-২০২৬। মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর কাজীর দেউরী জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম মাঠে মেলার উদ্বোধন করা হয়। মেলা চলবে আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত।
‎উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, একটি নৈতিক, জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। বই মানুষের চিন্তাকে প্রসারিত করে, মূল্যবোধ তৈরি করে এবং প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
‎মেয়র মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। পাহাড়তলী বধ্যভূমিসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে চসিক উদ্যোগ নিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে প্রকৃত শহীদদের তালিকা প্রণয়নে সহযোগিতা কামনা করেন।
‎তিনি আরও বলেন, আমরা চাই চট্টগ্রামের প্রতিটি ঐতিহাসিক স্থানে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষিত হোক, যাতে আগামী প্রজন্ম সত্য ইতিহাস জানতে পারে।
‎নগর পরিচালনা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, বাংলাদেশে এখনো পূর্ণাঙ্গ সিটি গভর্নমেন্ট’ ব্যবস্থা চালু হয়নি। ফলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা ও বিষয় সংরক্ষণে স্থানীয় সরকার সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ে। তবে এসব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও চসিকের আওতাধীন এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে কাজ চলমান রয়েছে।
‎মেয়র বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। যারা জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীন করেছেন, তাদের অনেকেই আজও কষ্টে দিনযাপন করছেন। তাদের প্রতি ন্যায়বিচার, সাম্য ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা আমাদের কর্তব্য।
‎বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড ও স্পোর্টস কার্ডের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করা হচ্ছে, যা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
‎বইমেলার গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র বলেন, বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না, বরং বই মানুষের জ্ঞানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি সংস্কৃতি জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে জানান, চসিক পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে এবং প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ই-লাইব্রেরির ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।
‎তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অধীনে বর্তমানে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতা বিকাশে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
‎নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, এই শহর আমাদের সবার। সবাই মিলে আমরা চট্টগ্রামকে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও জ্ঞানভিত্তিক নগরীতে পরিণত করতে পারি।
‎মেলার পরিসর সম্পর্কে তিনি জানান, প্রায় ৪০ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে ১২৯টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি ডাবল স্টল এবং ৯৪টি সিঙ্গেল স্টল রয়েছে। চট্টগ্রামের পাশাপাশি ঢাকার স্বনামধন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১১২টি প্রকাশনা সংস্থা মেলায় অংশ নিচ্ছে।
‎তিনি বলেন, প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং ছুটির দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এবারের মেলায় লেখক-পাঠকের ব্যাপক সমাগম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
‎মেলায় থাকছে বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক আয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্র উৎসব, নজরুল উৎসব, বৈশাখী উৎসব, লেখক সমাবেশ, শিশু ও যুব উৎসব, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনুষ্ঠান, কবিতা ও ছড়া উৎসব, আলোচনা সভা, লোকজ ও নৃগোষ্ঠী সংস্কৃতি বিষয়ক আয়োজনসহ নানা অনুষ্ঠান। প্রতিদিনের আলোচনা সভায় দেশের বিশিষ্ট লেখক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেবেন।
‎চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, সিএমপির উপ-কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া, শহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নুসরাত সুলতানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান, প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল করিম চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহাবুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ মামুন প্রমুখ।
‎স্বাগত বক্তব্য রাখেন সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সভাপতি শাহাবুদ্দিন হাসান বাবু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কুসুম কুমারী স্কুলের সহকারী শিক্ষক রূমিলা বড়ুয়া এবং মুনাজাত পরিচালনা করেন চসিকের মাদ্রাসা পরিদর্শক মাওলানা হারুনুর রশিদ। অনুষ্ঠানে চসিক পরিচালিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করে।
‎এদিকে, আগামীকাল বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বইমেলা মঞ্চে “একটি দেশকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষিত জাতির বিকল্প নেই” শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন বিজিএমইএ ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল করিম।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com