ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লালপুরে জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী শুটকী পল্লী। তিতাস ও মেঘনা নদীসহ বিস্তীর্ণ হাওড়াঞ্চল থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন প্রজাতির মাছ প্রাকৃতিক উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি হচ্ছে শুটকী। তবে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় আগের মতো লাভ করতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।
জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় প্রায় ১ হাজার ৪৬৩ মেট্রিক টন শুটকী উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা।
বাংলাদেশে মিঠাপানির শুটকী উৎপাদনের একটি বড় অংশ আসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে। জেলা সদর ছাড়াও নাসিরনগর ও আশুগঞ্জ উপজেলার শতাধিক মাচায় বর্তমানে শুটকী প্রক্রিয়াজাতকরণ চলছে। এর মধ্যে শুধু লালপুরেই রয়েছে অর্ধশতাধিক মাচা। তিতাস ও মেঘনা নদীসহ আশপাশের হাওড়াঞ্চল থেকে সংগৃহীত পুঁটি, শৈল, গজার, বাইম, বজুরি, টেংরা, বোয়ালসহ বিভিন্ন জাতের মাছ শুকিয়ে তৈরি হচ্ছে শুটকী।
শুটকী প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন সহস্রাধিক নারী-পুরুষ। সংশ্লিষ্টরা জানান, আশ্বিন মাস থেকে শুরু করে ফাল্গুন পর্যন্ত প্রায় ছয় মাস ধরে এখানে শুটকী তৈরির কাজ চলে। এখানকার শুটকী নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি বিদেশেও এর চাহিদা রয়েছে।
তবে উৎপাদনকারীরা জানান, বর্তমানে কেজিপ্রতি কাঁচা মাছের দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত। পাশাপাশি শুটকী তৈরির অন্যতম উপকরণ লবণসহ অন্যান্য সামগ্রীর দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে কাঙ্ক্ষিত লাভ না হওয়ায় এ পেশায় টিকে থাকতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
লালপুর শুটকী পল্লীর মাচার মালিক উৎপল দাস ও সাধন দাস জানান, প্রতিদিন প্রায় অর্ধলক্ষ টাকার মাছ প্রক্রিয়াজাত করে শুটকী তৈরি করা হলেও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে লাভের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত শুটকী উৎপাদনের জন্য প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে জড়িতদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী শুটকী উৎপাদন সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত শুটকী উৎপাদনে সংশ্লিষ্ট সকলের আরও উদ্যোগী ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
Leave a Reply