1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
প্রকৃতির ভাষা ক্যামেরায় ধরছেন যিনি - দৈনিক আমার সময়

প্রকৃতির ভাষা ক্যামেরায় ধরছেন যিনি

নিজস্ব প্রতিবেদক
    প্রকাশিত : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

দেখা যাবে, তা মনে মনে কল্পনা করি। ফ্রেম দেখার সময়ই ছবিটির সম্ভাব্য রূপ তৈরি হতে থাকে; বিশেষ করে লং-এক্সপোজারের ক্ষেত্রে শাটার চাপার আগেই ধারণা করার চেষ্টা করি, এক্সপোজার শেষ হলে আলো, চলমান বিষয় ও সময়ের প্রভাব ছবিতে কীভাবে ফুটে উঠবে।

সম্পাদনা সফটওয়্যার আপনার কাজের ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

ছবি তোলার পরের সম্পাদনাকে পুরো প্রক্রিয়ার একটি অংশ মনে করি, তবে একে ছবির মূল বিষয় মনে করি না। ছবি তোলার সময় যেভাবে দৃশ্যটি দেখেছি, সেটি যতটা সম্ভব ধরে রাখি। প্রয়োজন অনুযায়ী আলো, রং ও ছবির আবহ ঠিক করতে সম্পাদনা করি। সাধারণত স্ন্যাপসিড ব্যবহার করি। অ্যাডোবি লাইটরুম খুব বেশি ব্যবহার করিনি। তাই সফটওয়্যারের চেয়ে সঠিক আলো, কম্পোজিশন ও মুহূর্তকে গুরুত্ব দিই।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আপনার কাজ প্রকাশিত হয়েছে। এই স্বীকৃতি আপনার কাছে কী অর্থ বহন করে?

আন্তর্জাতিকভাবে আমার কাজ প্রকাশিত হওয়াকে শুধু একজন আলোকচিত্রী হিসেবে স্বীকৃতি হিসেবে দেখি না; এর সঙ্গে আমার দেশের পরিচয়ও জড়িয়ে আছে। ল’ওয়েই দ্য লা ফটোগ্রাফি, কলেটারাল, স্পেকটাকুলাম, আর্থ ডট অর্গ, ওয়ালম্যাগ, বায়রন ম্যাগাজিন কিংবা ওয়ার্থওয়াইল ম্যাগাজিনের মতো প্ল্যাটফর্মে কাজ প্রকাশিত হলে এবং নামের পাশে ‘বাংলাদেশি আলোকচিত্রী’ পরিচয়টি দেখলে ভালো লাগে। মনে হয়, আমার কাজের মাধ্যমে ছোট পরিসরে হলেও বাংলাদেশের পরিচয় পৌঁছে দিতে পারছি। এই স্বীকৃতিগুলো আরও ভালো কাজ করার দায়িত্ববোধও তৈরি করে।

আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কাজ পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা কেমন?

শুরুতে ফটোগ্রাফি ম্যাগাজিনে ছবি জমা দিলেও তেমন সাড়া পেতাম না। অনেক সময় কোনো উত্তরও আসত না। তারপরও চেষ্টা চালিয়ে গেছি। এই বছরের শুরুতে ‘বোটানিক্যাল সাইলেন্স’ তৈরি করার পর বিষয়টি বদলাতে শুরু করে। পুরো কাজ ছবি ও বিবরণসহ কলেটারালে জমা দেওয়ার পরদিনই তারা ইনস্টাগ্রামে বার্তা দিয়ে জানায়, তারা সিরিজটি নিয়ে নিবন্ধ প্রকাশ করতে চায়।

এরপর ওয়ালম্যাগে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সুযোগ পাই। দ্য আই অব ফটোগ্রাফিতে ‘বোটানিক্যাল সাইলেন্স’ প্রকাশের বিষয়টিও ই-মেইলের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়। পরে বায়রন ম্যাগাজিন, স্পেকটাকুলাম ম্যাগাজিন, ক্যামেরাপিক্সো প্রেসসহ আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রকাশনায় কাজ প্রকাশিত হয়েছে। ওয়ালম্যাগ, ওয়ার্থওয়াইল, গ্ল্যাজআর্টসহ কয়েকটি প্রকাশনায় সাক্ষাৎকারও দিয়েছি। কোনো কিউরেটর, ম্যাগাজিন বা সম্পাদকের কাছ থেকে ইতিবাচক মতামত পাওয়া আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া। আল্লাহর রহমতে এই সুযোগগুলোর জন্য আমি কৃতজ্ঞ।

আপনার ছবিতে প্রকৃতির নীরবতা, সৌন্দর্য ও রহস্য কীভাবে কাজ করে?

আমার কাছে প্রকৃতির নীরবতা, সৌন্দর্য ও রহস্য একে অপরের সঙ্গে জড়িত। প্রকৃতির সৌন্দর্য সব সময় চোখে পড়ার মতো হয় না; অনেক সময় ছোট ছোট বিবরণ, স্থিরতা ও নীরবতার মধ্যেই তা লুকিয়ে থাকে। তাই আলো, ছায়া, গঠন ও সূক্ষ্ম বিবরণের মাধ্যমে প্রকৃতির নীরব উপস্থিতি তুলে ধরার চেষ্টা করি। সেই নীরবতার মধ্যেই তৈরি হওয়া অজানা অনুভূতি ছবিটিকে আরও গভীর করে।

এই পথচলায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল?

আমার বয়স ১৯ বছর হলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ প্রকাশের পথটা শুরুতে সহজ ছিল না। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল কীভাবে ফটোগ্রাফি ম্যাগাজিনে ছবি জমা দিতে হয়, কোথায় কাজ পাঠাতে হয় বা কীভাবে প্রকাশিত হওয়া যায়, এসব জানতাম না। শুরুর দিকে নিজেকেই শিখতে হয়েছে কোন প্রকাশনায় ছবি জমা নেওয়া হয়, কীভাবে কাজ উপস্থাপন করতে হয় এবং কী ধরনের প্রকল্প পাঠানো উচিত। অনেক জায়গায় ছবি পাঠিয়েও সাড়া পাইনি। তবে সেগুলো থেকে শেখার চেষ্টা করেছি। আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল, না জানার কারণে থেমে না যাওয়া। নিজের কাজের প্রতি বিশ্বাস রেখে চেষ্টা করে যাওয়াই আমাকে আজকের জায়গায় আসতে সাহায্য করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com