বিবাহবিচ্ছেদের চার বছর পর সাবেক স্বামীর বাসায় হামলা, ভাঙচুর এবং নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানার আসকারদিঘীরপাড় এলাকার রানা টাওয়ারে। অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা।
অভিযোগকারী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রেমের সম্পর্কের পর পারিবারিকভাবে চয়ন বড়ুয়া ও মৌমিতা বড়ুয়ার বিয়ে হয়। পরবর্তীতে দাম্পত্য কলহের জেরে ২০২২ সালের ১৪ মে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বর্তমানে ভরণপোষণ-সংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
প্রতিবেদকের হাতে থাকা নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিবাহবিচ্ছেদের বিষয়ে ঢাকার নোটারি পাবলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে মৌমিতা বড়ুয়া চয়ন বড়ুয়ার কাছে একটি নোটিশ পাঠান।
চয়ন বড়ুয়ার পরিবারের অভিযোগ, গত ২৪ জুন বিকেলে মৌমিতা বড়ুয়া, তার মা এবং আরও কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে বাসায় প্রবেশ করেন। পরিবারের দাবি, বাসার সিসিটিভি ফুটেজেও তাদের প্রবেশের বিষয়টি দেখা গেছে। বাসায় ঢোকার পর পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করা হয়।
পরিবারের আরও অভিযোগ, হামলাকারীরা বাসার আলমারি ভেঙে নগদ এক লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। একই সঙ্গে ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।
চয়ন বড়ুয়ার বাবা সাধন বিকাশ বড়ুয়া বলেন, “দরজায় কড়া নাড়ার পর কয়েকজন নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেয়। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে মৌমিতা বড়ুয়া, তার মা এবং আরও কয়েকজন আমাকে ধাক্কা দিয়ে বাসায় ঢুকে পড়ে। এরপর তারা ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।”
চয়ন বড়ুয়ার মা ধরিত্রী ময়ী বড়ুয়া অভিযোগ করে বলেন, “মৌমিতা বড়ুয়াকে আমরা ভরণপোষণসহ বিভিন্নভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করে বড় করেছি। আমার ছেলের উন্নত জীবনের লক্ষ্যে সে প্রবাসে যাওয়ার পর মৌমিতা বড়ুয়া অন্য এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে পড়েন। এসব ঘটনার একপর্যায়ে ২০২২ সালের ১৪ মে আমাদের কাছে বিবাহবিচ্ছেদের নোটিশ আসে এবং পরবর্তীতে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।”
পাশের বাসার কয়েকজন বাসিন্দা ও ভবনের দারোয়ান জানান, চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ও আলমারি ভাঙচুর অবস্থায় দেখতে পান।
ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে কোতোয়ালী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মৌমিতা বড়ুয়া অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে তিনি সংবাদ প্রকাশ করা হলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে পুলিশের তদন্তাধীন থাকায় তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply