কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উদ্যোগে দিনাজপুরে ৬০ দিন মেয়াদি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সমাপনী ও মূল্যায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিনাজপুর আঞ্চলিক আনসার-ভিডিপি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৩টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ নেওয়া ১২০ জন আনসার-ভিডিপি সদস্যের এ মূল্যায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণ মূল্যায়ন পরীক্ষা পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী রংপুর রেঞ্জের উপমহাপরিচালক মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল, বিভিএম, পিভিএমএস। এসময় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. নুরুজ্জামানসহ প্রশিক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষকবৃন্দ।
পরিদর্শনকালে রংপুর রেঞ্জের উপমহাপরিচালক মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “কারিগরি প্রশিক্ষণ শুধু একটি দক্ষতা অর্জনের বিষয় নয়; এটি একজন মানুষকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথ দেখায়। প্রশিক্ষণার্থীরা এখান থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সময়ে কর্মমুখী ও কারিগরি দক্ষতার গুরুত্ব অনেক বেশি। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতাকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে হবে। সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করলে একজন প্রশিক্ষণার্থী নিজের আর্থিক অবস্থার উন্নতির পাশাপাশি পরিবার ও দেশের অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারেন।”
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শুধু প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলেই হবে না, প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞানকে কাজে লাগাতে হবে। নতুন কিছু শেখার আগ্রহ ধরে রাখতে হবে এবং সময়ের সঙ্গে নিজেদের দক্ষতাকে আরও উন্নত করতে হবে। আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।”
প্রশিক্ষণকালীন সময়ে প্রশিক্ষণার্থীরা হাতে-কলমে বিভিন্ন কারিগরি কাজের পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতি, নিরাপত্তা বিধি এবং কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে তাদের আত্মকর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলা। প্রশিক্ষণ শেষে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তারা বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন।
মূল্যায়ন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে ৬০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ পর্বের সমাপ্তি ঘটে। এখন অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাবেন প্রশিক্ষণার্থীরা।
উল্লেখ্য, রংপুর রেঞ্জের উপমহাপরিচালক মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
Leave a Reply