ডেঙ্গু প্রতিরোধ, এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ এবং মহানগরীর পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রংপুরে সাইকেল র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রংপুর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এবং নিউট্রিশন ইন সিটি ইকোসিস্টেমস (নাইস) প্রকল্পের সহযোগিতায় এ র্যালির আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
নগরীর ডিসির মোড় থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা সাইকেল চালিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ার আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগান দেন।
র্যালির উদ্বোধন করেন রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন। এ সময় তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম যথেষ্ট নয়, নগরবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। সিটি করপোরেশন নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে রংপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সাইকেল র্যালিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এ সময় সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. আজম আলী, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. রুবেল রানা, নগর পরিকল্পনাবিদ মো. নজরুল ইসলাম, মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আলম নয়নসহ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন দপ্তর এবং নাইস প্রকল্পের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত রংপুর বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৪৪০ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪ হাজার ১৯৬ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৩৩ জন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১১ জন।
আয়োজকরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুমুক্ত মহানগরী গড়ে তোলা সম্ভব।
Leave a Reply