1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
‎জনসচেতনতা ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব নয়: চসিক মেয়র - দৈনিক আমার সময়

‎জনসচেতনতা ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব নয়: চসিক মেয়র

জাকারিয়া হোসেন, চট্টগ্রাম
    প্রকাশিত : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

নালা-নর্দমা পরিষ্কারে ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ জোরদার, পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য আধুনিক আবাসন প্রকল্প

‎নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে মাসব্যাপী নালা-নর্দমা পরিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিচালিত ক্রাশ প্রোগ্রাম সরেজমিনে তদারকি করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
‎সকালে তিনি প্রথমে ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ডের জে.এম সেন স্কুলের পেছনে অবস্থিত বান্ডেল খাল এলাকায় চলমান পরিষ্কার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরে পর্যায়ক্রমে ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ওয়ার্ডের বদর খালি খাল (ইসলাম কলোনী) এবং ৩৫ নম্বর বক্সিরহাটা ওয়ার্ডের দক্ষিণ মধ্যম পীতম্বরশাহ এলাকায় নালা-নর্দমা পরিষ্কার কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
‎পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, নগরীর বিভিন্ন স্থানে নালা-নর্দমা ময়লার স্তুপে পরিণত হয়েছে, যা জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিছু অসচেতন ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের কারণে নালাগুলো কার্যত বর্জ্য ফেলার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে কোনো উদ্যোগই টেকসই হবে না।
‎তিনি আরও বলেন, জনগণকে সচেতন না করতে পারলে এই কর্মসূচি শতভাগ সফল করা সম্ভব নয়। এই শহর আমাদের সবার, তাই শহরের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। নিজ নিজ দোকান ও বাসার জন্য ডাস্টবিন রাখতে হবে এবং নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলতে হবে। ডাস্টবিন চুরি হওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে তদারকির আহ্বান জানান।
‎এ সময় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জীবনমান উন্নয়নকে অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা শহরের নীরব যোদ্ধা। তাদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন আবাসন নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমানে অনেক কর্মী অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছেন, যা উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে।
‎প্রকল্প সংশোধন অনুযায়ী আবাসন প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৯ কোটি ৩৫ লাখ ২০ হাজার টাকা, যা পূর্বের ২৩১ কোটি ৪২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ২০২৩ সালের হালনাগাদ রেট সিডিউল এবং নতুন নকশা অনুযায়ী নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণকে উল্লেখ করা হয়।
‎স্থান সংকুলান না থাকায় ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বান্ডেল কলোনিতে নির্ধারিত দুটি ভবনের একটি নির্মাণ সম্ভব না হওয়ায় সেটি ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ী ওয়ার্ডে চসিকের নিজস্ব জায়গায় নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্প এলাকায় বসবাসরত সেবকদের পুনর্বাসনে সময় লাগায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
‎উল্লেখ্য, এ প্রকল্পের আওতায় সাতটি ভবনে মোট ১ হাজার ৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে, যার প্রতিটির আয়তন প্রায় ৬০০ বর্গফুট। বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত আবাসনে বসবাসের সুযোগ পাবেন।
‎পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, নির্বাহী প্রকৌশলী ফারজানা মুক্তা, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মোঃ শরফুল ইসলাম মাহি, মেয়রের একান্ত সহকারী (রাজনৈতিক) জিয়াউর রহমান জিয়া, মেয়রের একান্ত সহকারী মারুফুল হক চৌধুরীসহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com