চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে এক ছাতার নিচে এনে একটি শক্তিশালী আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।
বুধবার নগরের টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন। সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চট্টগ্রাম নগর ডুবে যাওয়ার যে খবর ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও অতিরঞ্জিত। সরেজমিন পরিদর্শনে নগরের অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতার তেমন কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলেও তিনি দাবি করেন। তবে প্রবর্তক মোড় এলাকায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চলমান উন্নয়নকাজের কারণে সাময়িক জলজট সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, খাল সংস্কার প্রকল্প চলমান থাকায় কিছু এলাকায় পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত এসব বাধা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা হবে এবং বর্ষা মৌসুম শেষে পুনরায় টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি জানান, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড নগরের ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির সংস্কার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে। একই সঙ্গে প্রায় ছয় হাজারের বেশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। অবশিষ্ট খালগুলোর কাজ চলমান রয়েছে এবং চলতি বছরের মধ্যেই সব কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমেছে। আগামী মৌসুমে এটি ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে একাধিক সংস্থা—চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বন্দর কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পৃথকভাবে কাজ করায় সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা দেয়। এ সমস্যা দূর করতে মেয়রের নেতৃত্বে একটি কার্যকর সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে, যাতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত সমস্যা সমাধান করা যায়।
সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গত এক বছরে সমন্বিত উদ্যোগের ফলে নগরের জলাবদ্ধতা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে এ হার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশে উন্নীত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নগর ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে নতুন উদ্যোগের কথাও জানান মেয়র। তিনি বলেন, আগামী ১৫ মে একটি সমন্বিত নাগরিক সেবা অ্যাপ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা কোথাও ময়লা জমে থাকা, ম্যানহোলের ঢাকনা না থাকা বা জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার মতো সমস্যা সরাসরি কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারবেন।
মেয়র আরও বলেন, চট্টগ্রামে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই হবে না, নাগরিকদের আচরণগত পরিবর্তনও সমানভাবে জরুরি।
তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ইতোমধ্যে দেশের সেরা সেবা প্রদানকারী সিটি কর্পোরেশন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাবে।
সভায় নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় বিভিন্ন সেবা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply