রাজপথ, আদালত এবং মানবাধিকারের লড়াই, সবখানেই আপোষহীন এক সাহসী নেতৃত্বের নাম এডভোকেট কানিজ কাউসার চৌধুরী। জাতীয়তাবাদী রাজনীতির দুঃসময়ে তিনি চট্টগ্রাম আদালতপাড়ায় গায়েবী মামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে বিনা পারিশ্রমিকে আইনি সহায়তা দিয়ে দায়িত্বশীলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
চট্টগ্রামের কাট্টলীর ঐতিহ্যবাহী নাজির বাড়ির সন্তান কানিজ কাউসার চৌধুরী একটি সুপ্রাচীন রাজনৈতিক ও আদর্শিক পরিবারের উত্তরসূরি। এ পরিবার থেকে যুগে যুগে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটেছে। ভাষা সৈনিক, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও একুশে পদকপ্রাপ্ত বদিউল আলম চৌধুরীর আদর্শে বেড়ে ওঠা তিনি ছোটবেলা থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার শিক্ষা পেয়েছেন। তার মাতা মরহুমা লুৎফা বেগম সুরাইয়া চৌধুরীও ছিলেন রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও দৃঢ়চেতা ব্যক্তিত্ব। পারিবারিক ঐতিহ্য, রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে গড়ে ওঠে তার ব্যক্তিত্ব।
ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনজন সরাসরি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। বড় বোন ডা. নাজনীন কাউসার চৌধুরী সরকারের উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করছেন। বড় ভাই আহমেদ উল আলম চৌধুরী চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছোট ভাই মাহমুদ উল আলম চৌধুরী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের অর্থ সম্পাদক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। পরিবারটি রাজনৈতিকভাবে যেমন পরিচিত, তেমনি সংকটে পরীক্ষিত ও আদর্শে দৃঢ়।
এডভোকেট কানিজ কাউসার চৌধুরী জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি এবং জিয়া পরিষদের সহ-সভাপতি হিসেবে সক্রিয় আছেন।
শিক্ষাজীবনেও তিনি ছিলেন মেধাবী ও শৃঙ্খলাবদ্ধ। ১৯৯১ সালে সেন্ট স্কলাস্টিকা গার্লস হাই স্কুল থেকে এসএসসি, ১৯৯৩ সালে সরকারি সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি, ১৯৯৫ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে স্নাতক এবং ১৯৯৮ সালে চট্টগ্রাম আইন কলেজ থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেন। ২০০২ সালের ২৯ জানুয়ারি আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে টানা দীর্ঘ সময় ধরে তিনি আইন পেশায় সক্রিয় রয়েছেন।
তিনি আদালতে এজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্যানেল আইনজীবী হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তার কাছে আইন কেবল পেশা নয়, ন্যায় প্রতিষ্ঠার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয়। চট্টগ্রাম আইন কলেজে ছাত্রদলের মহিলা সম্পাদিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। ১৯৯৫ সালে জিসাসের কেন্দ্রীয় সদস্য নির্বাচিত হন এবং চট্টগ্রাম মহানগর জিসাসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে সংগঠন গঠনে ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় চট্টগ্রামের নাসিমন ভবনের সামনে “গণতন্ত্র মঞ্চে” টানা পনের দিন সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পরিচালনা করেন।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাথে তার সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিনের এবং কার্যকর। গত প্রায় দুই দশক ধরে তিনি রাজনৈতিক মামলায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। ১/১১-পরবর্তী সময়ে বিএনপির কঠিন সময়েও তিনি আদালতে দৃঢ় অবস্থান ধরে রাখেন। ভয়ভীতি, চাপ ও নজরদারি উপেক্ষা করে সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।
২০১৭ সালে নয়াপল্টনে তারেক রহমানের সাথে স্কাইপি সংলাপে অংশ নিতে যখন অনেকেই দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন, তখন তিনি সাহসিকতার সাথে অংশগ্রহণ করেন। ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়ার রায়ের দিন চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের বিক্ষোভে তিনি সম্মুখ সারিতে ছিলেন এবং গ্রেফতার হওয়া নেতাদের আইনি সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মেয়র নির্বাচনের অনিয়মের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার অন্যতম আইনজীবী ছিলেন তিনি। মামলার কার্যক্রমে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
জুলাই আন্দোলন তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আন্দোলনের প্রতিটি কর্মসূচিতে তিনি সম্মুখ সারিতে ছিলেন। “মার্চ ফর জাস্টিস” কর্মসূচিতে ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনজীবীদের যে ব্যারিকেড গঠন করা হয়েছিল, তিনি ছিলেন তার অন্যতম। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি সংকটময় সময়ে ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখেন।
সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেও তিনি সক্রিয়। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে দুই শতাধিক দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মামলা বিনা ফিতে পরিচালনা করেছেন। এছাড়া শিক্ষা, মানবাধিকার ও সামাজিক উন্নয়নে নানা সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে কাজ করছেন।
তিনি প্রমাণ করেছেন, রাজনীতি মানে শুধু মিছিল নয়, দায়িত্বও। আইনজীবী মানে শুধু আদালত নয়, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা। নারীর নেতৃত্ব মানে প্রতীকী উপস্থিতি নয়, কার্যকর ভূমিকা। প্রতিকূল সময়ে তিনি কখনো নীরব থাকেননি, আপস করেননি।
আজ সময় এসেছে এমন ত্যাগী, সাহসী ও পরীক্ষিত নেতৃত্বকে যথাযথ মূল্যায়ন করার। এডভোকেট কানিজ কাউসার চৌধুরী কেবল একজন রাজনৈতিক কর্মী নন, তিনি একটি আদর্শিক ধারার প্রতিনিধিত্ব করেন। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়ের প্রশ্নে তার অবস্থান সবসময়ই সুস্পষ্ট।
সংরক্ষিত নারী আসনে তার মতো যোগ্য, অভিজ্ঞ ও আপসহীন নেতৃত্বকে দেখতে চায় চট্টগ্রামবাসী, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।৬৩৩৩
Leave a Reply