চট্টগ্রামের ইপিজেড থানাধীন এলাকায় সংঘটিত এক নৃশংস গণধর্ষণের ঘটনায় দাপটপূর্ণ অভিযানে চার আসামিকে গ্রেফতার করেছে, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ইপিজেড থানা পুলিশ। সহকারী পুলিশ কমিশনার (বন্দর জোন) মাজহারুল ইসলাম এবং ইপিজেড থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আতিকুর রহমান, বিপিএম-এর নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মোঃ ইয়াছিন, এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ শাহীন মিয়া, এএসআই (নিঃ) আব্দুর রহমান পাটোয়ারীসহ একটি চৌকস টিম ব্যারিষ্টার কলেজ এলাকার বিভিন্ন ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী এক চাকমা তরুণী (২২) সিইপিজেড এলাকার এম এস সুমন্তরা-১ গার্মেন্টসে চাকুরির সুবাদে ব্যারিষ্টার কলেজ এলাকার আনোয়ারা ম্যানশনে তার স্বজাতির অন্যান্য নারী শ্রমিকদের সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তার বন্ধু অংশুইচিং মারমা চিকিৎসার প্রয়োজনে ফেনী জেলা থেকে চট্টগ্রামে এসে তার বাসায় ওঠেন এবং সেখানে অবস্থান করে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে থাকেন।
একই বাসায় বসবাসকারী ওকরাইজা মারমা বিষয়টি তাদের এলাকার ওথাইইনু মারমাকে জানালে, সে তার সহযোগী আপ্রুমং মারমা ও থুয়াইচিং মারমাকে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে চাপ সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে পূর্বপরিচিত পাহাড়ি নারী ওকরাইজা মারমার সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে ভুক্তভোগী তরুণীকে ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে ইপিজেড থানাধীন ব্যারিষ্টার কলেজ রোডস্থ সিরাজ বিল্ডিংয়ের ৫ম তলায় আপ্রুমং মারমার ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ওই বাসায় নেওয়ার পর আপ্রুমং মারমা (২৬), পিতা- উচাই মারমা, মাতা- নুংথুই প্রু মারমা, সাং- উরাছড়ি, থানা- বিলাইছড়ি, জেলা- রাঙ্গামাটি; থুয়াইচিং মারমা (২৯), পিতা- উহল্লা প্রু মারমা, মাতা- সুইথুই মারমা, সাং- তংটুল্যা পাড়া, থানা- নানিয়ারচর, জেলা- রাঙ্গামাটি; ওথাইইনু মারমা (৩০), পিতা- উহল্লা প্রু মারমা, মাতা- মৃত মাসুইনু মারমা, সাং- শামুকছড়ি, ৩ নং ঘাঘরা ইউপি, থানা- কাউখালী, জেলা- রাঙ্গামাটি—বর্তমানে জাকিয়া ম্যানশন, ৬ষ্ঠ তলা, রুম নং-৬৯, ব্যারিষ্টার কলেজ রোড, চট্টগ্রাম—এবং তাদের সহযোগীরা ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন আপত্তিকর কথা বলে মানসিকভাবে চাপে ফেলে। তারা তার বিরুদ্ধে কথিত অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তোলে এবং নিজেদের সঙ্গেও অনৈতিক কাজে বাধ্য করার চেষ্টা করে।
একপর্যায়ে আপ্রুমং মারমা, থুয়াইচিং মারমা ও ওথাইইনু মারমা জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং পরবর্তীতে সবাই বাসা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
ঘটনার শিকার হয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত তরুণীটি ২৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ইপিজেড থানায় হাজির হয়ে অফিসার ইনচার্জের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করে পুলিশ এবং ব্যারিষ্টার কলেজ এলাকার বিভিন্ন ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত চারজন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। নগরীর শ্রমজীবী নারী ও ভাড়াটিয়া বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
Leave a Reply