স্বল্প খরচে সুস্বাদু, মানসম্মত, পরিচ্ছন্ন ও মুখরোচক খাবারের জন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুরের ক্যান্টিন। সাশ্রয়ী মূল্যের পাশাপাশি খাবারের বৈচিত্র্য, স্বাদ, মান ও সুন্দর পরিবেশনের কারণে ক্যান্টিনটি শিক্ষার্থীদের কাছে হয়ে উঠেছে পছন্দের একটি জায়গা।
ক্যান্টিনে পাওয়া যাচ্ছে মজাদার মাংসের চিকেনসহ খিচুড়ি, পুরি, সিংড়া, শামুচ্চা, চপ, পেটিস, সমুচাসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবার। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে বার্গার, স্যান্ডউইচ, হটডগ, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিকেন রোলসহ নানা ধরনের ফাস্টফুড। স্বল্প দামের মধ্যে খাবারের এমন বৈচিত্র্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
টিফিনের সময় ক্যান্টিনে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি। কেউ পছন্দের খাবার সংগ্রহ করছে, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে বসে খাবার উপভোগ করছে। ব্যস্ত সময়ে ক্যান্টিন প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে তৈরি হয় আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
শিক্ষকের প্রশংসা
পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক জেসমিন ফেরদৌস ক্যান্টিনের খাবারের প্রশংসা করে বলেন, “এই ক্যান্টিনের সব খাবারের মান খুব ভালো। আমিও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত এখানে খেতে আসি। খাবারের স্বাদ ও মান আমার খুবই পছন্দ হচ্ছে। বিশেষ করে চিকেন রোল, সিংড়া ও সামুচা আমার বেশ ভালো লাগে। শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্প দামে ভালো মানের খাবারের এমন ব্যবস্থা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীরা যেন প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই ভালো পরিবেশে সাশ্রয়ী মূল্যে খাবার খেতে পারে, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্যান্টিনে খাবারের বৈচিত্র্যও রয়েছে, ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার বেছে নিতে পারছে।”
শিক্ষার্থীদের মুখে প্রশংসা
ক্যান্টিনে খাবার নিতে আসা শিক্ষার্থী সাদ বিন বলেন, “এখানে কম টাকার মধ্যে অনেক ধরনের খাবার পাওয়া যায়। বিশেষ করে খিচুড়ি, পুরি, সিংড়া ও শামুচ্চার স্বাদ বেশ ভালো। স্কুলের ভেতরেই সাশ্রয়ী দামে খাবার পাওয়া যায়—এটা আমাদের জন্য অনেক সুবিধার।”
শিক্ষার্থী রাসেল বলেন, “ক্যান্টিনের খাবারের বৈচিত্র্য আমাদের সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। টিফিনের সময়ে বন্ধুরা মিলে এখানে খাবার খাই। দাম তুলনামূলক কম এবং খাবারও বেশ মজাদার।”
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “পড়াশোনার ব্যস্ততার মাঝে টিফিনের সময় ক্যান্টিনে এসে পছন্দের খাবার খেতে ভালো লাগে। স্বল্প টাকায় পেট ভরে খাবার পাওয়া যায় বলে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্যান্টিনটি বেশ জনপ্রিয়।”
আরেক শিক্ষার্থীর ভাষায়, “ক্যান্টিনে বিভিন্ন ধরনের খাবার থাকায় প্রতিদিনই নতুন কিছু খাওয়ার সুযোগ হয়। বিশেষ করে পুরি, সিংড়া ও শামুচ্চা বেশ উপভোগ্য। শিক্ষার্থীবান্ধব দামে খাবার রাখার বিষয়টি সত্যিই প্রশংসনীয়।”
অভিভাবকরাও সন্তুষ্ট
ক্যান্টিনের খাবারের মান, স্বাদ ও পরিচ্ছন্নতার প্রশংসা করেছেন অভিভাবকরাও। তাদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী ও বৈচিত্র্যময় খাবারের ব্যবস্থা থাকা একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। খাবারের মান ও পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়ায় সন্তানরা এখানে খাবার গ্রহণ করলে অভিভাবকরাও স্বস্তি বোধ করেন।
এক অভিভাবক বলেন, “খাবারের মান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাদের দিক থেকে ক্যান্টিনটি বেশ ভালো। আমাদের ছেলে-মেয়েরা প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই নিরাপদ ও সাশ্রয়ী মূল্যে খাবার খেতে পারছে—এটি আমাদের জন্য স্বস্তির বিষয়।”
অভিভাবকদের মতে, শিক্ষার্থীদের সুবিধা ও স্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এমন একটি সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্ন ক্যান্টিন থাকা প্রশংসনীয়। এতে শিক্ষার্থীদের বাইরে গিয়ে খাবার কেনার প্রয়োজন কমছে এবং তারা প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই টিফিনের সময় পছন্দের খাবার গ্রহণ করতে পারছে।
সব মিলিয়ে স্বাদে অনন্য, মানে প্রশংসনীয়, পরিচ্ছন্নতায় নজরকাড়া, দামে সাশ্রয়ী এবং খাবারের বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্যান্টিনটি শিক্ষার্থীদের কাছে শুধু খাবারের জায়গা নয়; বরং টিফিনের সময় আনন্দ, আড্ডা ও স্বস্তির একটি পরিচিত ঠিকানা হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পছন্দের খাবারের তালিকায় চিকেন রোল, সিংড়া, সামুচা, খিচুড়িসহ বিভিন্ন আইটেম জায়গা করে নিয়েছে। সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত খাবার সরবরাহের কারণে ক্যান্টিনটি প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করছে।
Leave a Reply