নড়াইলে কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার দেবদুন গ্রামে টাকা ফেরত দিতে দেরি হাওয়ায় সিদ্দিক কাজীর বাড়ি সহ আরও দশটি বাড়ি ভাংচুর ও মারধরের অভিযোগ পাওয়া গিয়াছে জাকির মোল্লার বিরুদ্ধে।
২০ সেপ্টেম্বর (রবিবার) নড়াগাতী থানা সূত্রে জানা যায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নড়াগাতী থানার দেবদুন গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ-সময় ৫০ বছরের এক মহিলা গুরুতর হামলার শিকার হয়ে গোপালগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা রত রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ আগে দেবদুন গ্রামের সিদ্দিক মোল্লা পাঠ বিক্রির কথা বলে ব্যাবসায়ী জাকির মোল্লার কাছ থেকে একহাজার টাকা অগ্রিম নেয়। কিন্তু ১ সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও সিদ্দিক মোল্লা পাঠ না দেওয়ায় ব্যাবসায়ী জাকির মোল্লা সিদ্দিক মোল্লার বাড়িতে গিয়ে ১ হাজার টাকার সাথে ১ শত টাকা সুদ সমত ফেরত চাইতে দুজনের ভিতর বাক বিতান্ডার সৃষ্টি হয়।
এনিয়ে পরদিন সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে ১। জাকির মোল্যা (৩৫), ২। মহাসিন মোল্যা (৪৫), ৩। হাসান মোল্যা (৫০), পিতা- কোবাদ মোল্যা, ৪। আফতাব মোল্যা (৩৫), পিতা- রউফ মোল্যা, ৫। লুৎফর মোল্যা (৬০), পিতা- মৃত কালা মোল্যা, ৬। হাফিজুর ফকির (৩৫), পিতা-আকিদুল ফকির, ৭। আকিদুল ফকির (৫৫), পিতা-মৃত আবুল ফকির, ০৮। লতিফ মোল্যা (৪০), ০৯। মুসা মোল্যা (২১), উভয় পিতা- লুৎফর মোল্যা,
১০। মোঃ রফিক মোল্যা (৫৫), ১১। টুটুল মোল্যা (৪৫), উভয় পিতা-ওহাব মোল্যা, ১২। সাইফুল মোল্যা (৪৫), পিতা-কোবাদ মোল্যা, ১৩। বাবর ভূইয়া (৫০), ১৪। ইলিয়াছ ভূইয়া (৪৫), উভয় পিতা- মৃত দলু ভূইয়া, ১৫। জাকির ভূইয়া (৩০), পিতা-আকুব ভূইয়া, সর্ব সাং দেবদুন, থানা- নড়াগাতী, জেলা- নড়াইলগন সহ অজ্ঞাত আরো ১৫/২০ জনের বিরুদ্ধে এজাহার করিতেছি যে, আসামীরা অত্যান্ত খারাপ, লাঠিয়াল, অত্যাচারী, সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। গত ১৫ সেপ্টেম্বর আমার ভাতিজা মোঃ ছিদ্দিক কাজীর পাট ক্রয় বিক্রয়কে কেন্দ্র কর তর্ক বিতর্কের একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়।
বিষয়টি স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একই তারিখ সন্ধায় মিমাংসা করে দেয়। কিন্তু উল্লেখ্যিত অভিযুক্তরা ইর্ষানীত হইয়া বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোক ও দেশীয় অস্ত্র সংগ্রহ করে ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে অজ্ঞাত আরো ১৫/২০ জন হাতে রামদা, লোহার রড, লোহার শাবল, লোহার হাতুড়ি, ভেলা সহ আরো অনেক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ৪নং আসামী আফতাব মোল্যার হুকুমে আমার সেজো ভাই মোঃ রউফ কাজীর বাড়িতে হামলা চালায়।
ঐ সময় রউফ মোল্যার স্ত্রী মোসাঃ রুনা বেগম (৫৫), বাধা দিতে গেলে অভিযুক্ত জাকির মোল্যা হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম করে এবং ডান হাতের হাড় ভেঙ্গে খন্ডিত হয়ে মাংশ পেশি ছিড়ে বের হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে প্রচুর পরিমানে রক্ত প্রবাহিত হয়। ঐ সময় ৬ নং আসামী হাফিজুর ফকিরের নির্দেশে আসামীরা সকলে লুটপাটের উদ্দেশ্যে বসত বাড়িতে হামলা চালায়।
প্রায় ৩০ মিনিট ধরে এ ধংলযগ্য চালায়। একপর্যায়ে হাফিজুর ঘরের ভিতর ঢুকে পাঠ বিক্রয় করে জমা করা আনুমানিক ৭০,০০০/- (সত্তর হাজার) টাকা এবং সাংসারিক মালামাল লুট করে, যাহার আনুমানিক মূল্য- ১,০০,০০০/-(এক লক্ষ) টাকা। লুটপাটের একপর্যায়ে মোসাঃ রুনা বেগম এর গলায় থাকা ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়, যাহার আনুমানিক মূল্য- ১,৮০,০০০/-(এক লক্ষ আশি হাজার) টাকা।
একই তারিখ সকাল অ ১০ টার দিকে আসামীরা মোঃ তৌহিদ কাজী, মোঃ ছিদ্দিক কাজী, মোঃ আব্দুল আলীম, মোঃ জাফর কাজীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে একাধিক বসত বাড়ি ভাংচুর করে। উল্লেখ থাকে যে, মোঃ জাফর কাজীর বাড়িতে ০১টি মটর সাইকেল, ০১টি ব্যাটারী চালিত ভ্যান, ০১টি পাওয়ারটিলার ভাংচুর করে, যাহার আনুমানিক ক্ষতির পরিমান ১,২০,০০০/-(এক লক্ষ বিশ হাজার) টাকা। আসামীরা আমাদের বাড়ি ঘর ও মালামাল ভাংচুর করে প্রায় ৭,০০,০০০/-(সাত লক্ষ) টাকার ক্ষতি করে। আমাদের ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসিলে আসামীরা আমাদেরকে বিভিন্ন প্রকার প্রাননাশের হুমকি ধামকি প্রদান করে চলে যায়।
উক্ত ঘটনার বিষয়ে সাক্ষী- ১। মস্তফা খন্দকার (৬০), পিতা-মৃত ধলামিয়া খন্দকার, ২। দেলজান বেগম (৪৫), স্বমী- মৃত জাহিদ কাজী, ৩। আঞ্জুয়ারা বেগম (৪০), স্বামী- মোঃ লাভলু মোল্যা, সর্ব সাং- দেবদুন, থানা- নড়াগাতী, জেলা- নড়াইল সহ আরো অনেকে উক্ত ঘটনার বিষয়ে জানে দেখে ও শোনে। আমার ভাইয়ের স্ত্রী রুনা বেগম এর অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় তাকে দ্রুত গোপালগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
Leave a Reply