তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতিটি জাতীয় সংকটে বারবার সমাধানমূলক নেতৃত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
আজ জাতীয় সংসদে প্রদত্ত বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দেশের মানুষ যখন মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর নেতৃত্বে রাজনৈতিক সংগ্রাম যুদ্ধের সংগ্রামে রূপ নেয়।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে জাতি যখন গভীর সংকটে নিমজ্জিত হয়, তখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের নেতৃত্ব গ্রহণ করে সেই সংকট উত্তরণে ভূমিকা রাখেন।
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, ১৯৮২ সালে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে দীর্ঘদিন অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকলে, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া-এর নেতৃত্বে জনগণ বনাম স্বৈরাচারের আন্দোলনে বিজয় অর্জিত হয়।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালেও একইভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে গণআন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটিয়ে দেশে নির্বাচন আদায় করা সম্ভব হয়েছে এবং আজকের নির্বাচিত সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, অতীতের শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করেছে, কিন্তু বিএনপি সবসময় রাজনৈতিক, গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক এবং যুক্তিনির্ভর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংকট সমাধানে বিশ্বাস করে। বর্তমান জাতীয় সংসদ সেই রাজনৈতিক দর্শনেরই প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তথ্য মন্ত্রী।
সরকারি দল ও বিরোধী দলকে যৌথভাবে কাজ করে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং জনগণের স্বপ্ন পূরণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের জনগণ জাতীয় ঐক্য চায় এবং জাতীয় সংকট মোকাবিলায় বিএনপি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দিয়ে যাবে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান জাতীয় সংসদ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।
বিরোধী দলের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জাতীয় সংকট মোকাবেলায় সংসদে একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে। তিনি ১১ দলীয় জোটসহ বিরোধী দলকে সংসদে গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
একইসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক উত্তাপের মূল কারণ আদর্শগত সংকট। ধর্ম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং গণঅভ্যুত্থানকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করলে বিভাজন বাড়ে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জনগণের প্রত্যাশার প্রতি দায়বদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপি সবসময় রাজনৈতিক, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সংকট সমাধানে বিশ্বাসী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারি দল ও বিরোধী দল যৌথভাবে কাজ করে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে।
মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রশ্নে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, যদি পরাজিত আওয়ামী লীগ আবার এই সংসদে ফিরে আসে, সে যদি দাবি করে যে চব্বিশের জুলাইয়ের গণহত্যার কথা বলা যাবে না, তার গা থেকে তার হাত থেকে কিন্তু রক্তের দাগ কখনো মুছবে না, ঠিক তেমনি একাত্তরের গণহত্যার প্রশ্নেও বিরোধী দল একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান না নেওয়া পর্যন্ত এই বিতর্ক চলতেই থাকবে।
জুলাইয়ের গণহত্যা এবং ১৯৭১ সালের গণহত্যার প্রশ্নে রাজনৈতিক বিতর্ক চলবে; তবে সেই বিতর্ক সংসদ, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে এ প্রসঙ্গে আপস করা হবে না বলেও তিনি দৃঢ় মনোভাব ব্যক্ত করেন।
Leave a Reply