দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন শপিংমল ও দোকান মালিকদের মধ্যে তা বাস্তবায়নে চরম অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জ্বালানি তেলের ওপর চাপ কমানো এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযম আনতে সরকার শপিংমলগুলোকে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও বাস্তবে এর কার্যকর প্রয়োগ খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।
নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও অধিকাংশ দোকানপাট খোলা রাখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, শপিংমলের ভেতরে ও বাইরে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের নির্বিচার ব্যবহার অব্যাহত রয়েছে। এতে একদিকে বিদ্যুতের অপচয় বাড়ছে, অন্যদিকে জাতীয় গ্রিডের ওপর সৃষ্টি হচ্ছে অতিরিক্ত চাপ, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।
একই চিত্র দেখা যাচ্ছে নগরীর বিভিন্ন ক্লাব, কমিউনিটি সেন্টার ও সামাজিক অনুষ্ঠানের স্থানগুলোতেও। বিবাহ অনুষ্ঠানসহ নানা সামাজিক আয়োজনে জমকালো আলোকসজ্জা ব্যবহার করে অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে গভীর রাত পর্যন্ত। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের এ সংকটময় সময়ে এমন অপচয় নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে যাদের তদারকি করার কথা, তাদের দৃশ্যমান কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত। নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় শপিংমল কমিটি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের উদাসীনতা ও দায়সারা মনোভাব তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, যেখানে সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য নানা সীমাবদ্ধতা মেনে চলতে হচ্ছে, সেখানে প্রভাবশালী বাণিজ্যিক গোষ্ঠী ও সামাজিক আয়োজকদের এমন অবাধ আচরণ জনমনে ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে। এটি কেবল প্রশাসনিক দুর্বলতার ইঙ্গিতই নয়, বরং দায়িত্ব পালনে শৈথিল্যেরও স্পষ্ট প্রতিফলন।
সচেতন মহলের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুধু নির্দেশনা জারি করলেই চলবে না, তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।
চট্টগ্রাম মহানগরের শপিংমল কমিটি, দোকান মালিক এবং সামাজিক অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলুন। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও আরও সক্রিয়, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা পালনের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অবহেলা নয়, প্রয়োজন সম্মিলিত দায়িত্ববোধ। এখনই সময়, সচেতন হওয়ার, নিয়ম মানার এবং দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসার।
Leave a Reply