রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় গুজব ছড়িয়ে হেযবুত তওহীদ সদস্যদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) সকালে রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হেযবুত তওহীদের রংপুর বিভাগের সভাপতি মোঃ আব্দুল কুদ্দুস শামীম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি পীরগাছা উপজেলার পারুল ইউনিয়নের নাগদহ ছিদাম বাজার এলাকায় একটি প্রীতিভোজকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি পক্ষ মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে সংঘবদ্ধ হামলা চালায়। এতে তার পরিবারসহ সংগঠনের সদস্যদের ৮টি বসতবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
তিনি আরও জানান, হামলাকারীরা ১২টি বিদেশি জাতের গবাদিপশু লুট করে নিয়ে যায় এবং ২৩টি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হন, যাদের মধ্যে দুইজন স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। ফায়ার সার্ভিসের প্রতিবেদনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ কোটির বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা থানায় ও আদালতে মোট ছয়টি মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে পাঁচটি মামলার তদন্ত শেষে সিআইডি ও পিবিআই প্রতিবেদন দাখিল করে এবং আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে এখনো থানায় দায়ের করা মামলার প্রতিবেদন জমা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং আপসের নামে মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দিতে থাকে। এমনকি গত ১৮ এপ্রিল নাগদহ এলাকায় একটি অনুমোদনহীন সমাবেশ করে আসামিরা নতুন করে হুমকি প্রদান করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। অভিযোগ করা হয়, পূর্বে অবহিত করার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ওই সমাবেশ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, বরং সেখানে উপস্থিত থেকে নিরাপত্তা প্রদান করেছে, যা ভুক্তভোগীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার,
২. ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও হেযবুত তওহীদ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,
৩. তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার,
৪. থানায় দায়ের করা মামলার দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন এবং কোনো ধরনের সংঘাত চান না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা করছেন।
তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
Leave a Reply