এই দখলবাজ চক্রের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন মহেশখালীর বাসিন্দা এডভোকেট সায়েম নামে এক ব্যক্তি।
কক্সবাজারে সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন ঝাউবাগান উজাড় আর বালিয়াড়ি দখল করে অবৈধভাবে তৈরি করা মৎস্য ঘেরের ঘেরা ভেঙে দিয়েঠেছ জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে বনবিভাগের যৌথ অভিযানিক দল। একই সঙ্গে ওখানে তৈরি করা প্লট আর কিছু ঘরও উচ্ছেদ করা হয়েছে।
রবিবার বিকাল ৩ টা থেকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মনজু বিন আফনান নেতৃত্বে নাজিরারটেক সংলগ্ন সৈকতের পাশে এ অভিযান শুরু হয়।
অভিযানে ঝাউবাগান উজার করে ১ একরের বড় মৎস্য ঘেরটি চারিপাশের ঘেরা ভেঙে দেয়ার পর মৎস্য ঘেরটি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। একই সঙ্গে বালিয়াড়ি দখল করে প্লট আকারে ভাগ করা স্থান ও তৈরি ঘর ভেঙে দেয়া হয়।
বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে অভিযান বন্ধ করা হলেও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মনজু বিন আফনান জানান, এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পুরো এলাকার দখল উচ্ছেদ না করা পর্যন্ত চলবে অভিযান।
মুলত একটি প্রভাবশালী চক্র সরকারি এই জমি নিজেদের বলে কাগজপত্র বানিয়ে বিক্রি করা হয়েছিল।
গেল শুক্রবার স্থানীয় দৈনিক কক্সবাজার এ সচিত্র সংবাদ প্রকাশ হয়। যে সংবাদ রবিবার পর্যন্ত দৈনিক আমার সময় সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মনজু বিন আফনান জানিয়েছেন, মুলত প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরেই প্রশাসন বিষয়টি অবহিত হন। এর জের ধরে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে দখলদারদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করার কাজ চলছে। এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে সরেজমিনে দেখা গিয়েছিল নাজিরারটেক সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় ঝাউগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বালিয়াড়ি ঘিরে তৈরি করা হয়েছে মৎস্য ঘের। বড় বড় জায়গা দখল করে প্লট আকারে ভাগ করা হয়েছে এবং সেখানে স্থাপন করা হয়েছে পাহারাদার ও সিসিটিভি ক্যামেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই দখলবাজ চক্রের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন মহেশখালীর বাসিন্দা এডভোকেট সায়েম নামে এক ব্যক্তি। এছাড়া এছাড়া রয়েছে সেলিম, সৈয়দ আলম, সোহেল, মোস্তাক, নাছির, মিজান, সাইফুল, গিয়াস উদ্দিন, মনির, হুমায়ন ও কায়সার সহ আরো অনেকের নাম। তাদের মধ্যে রয়েছে বন পাহারাদার সহ রাজনৈতিক দলের পদ-পদবী ব্যবহার করা লোকজন।
মাঠ পর্যায়ের তথ্য বলছে, রাজনৈতিক প্রভাবকে পুঁজি করে দীর্ঘদিন ধরে এ দখল কার্যক্রম চলছে। আগে যেখানে পূর্ববর্তী সরকারের নেতাকর্মীদের নাম শোনা যেত, বর্তমানে নতুন করে অন্যদের নাম উঠে এসেছে।
Leave a Reply