চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের পানি সংকট নিরসনে গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী Begum Khaleda Zia কর্তৃক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত মোহরা পানি শোধনাগার (ফেজ-২) প্রকল্পটি বিগত ২৩ বছরেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় নগরবাসীর দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
সূত্র জানায়, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৩ সালের ৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের মোহরায় এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। কিন্তু তৎকালীন অর্থ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং বরাদ্দ জটিলতার কারণে প্রকল্পটির কাজ শুরুই করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রকল্পটি ধীরে ধীরে স্থবির হয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তী সরকারগুলোর আমলে চট্টগ্রামে নতুন করে একাধিক পানি শোধনাগার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও, পূর্বের এই প্রকল্পটি রাজনৈতিক কারণেই উপেক্ষিত থেকেছে। ফলে দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে প্রকল্পটি কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
এদিকে, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত অবকাঠামোগত স্থান এবং হালদা নদী থেকে পানি সংগ্রহের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তা কাজে লাগানো হয়নি। বর্তমানে অবহেলায় পড়ে রয়েছে ভিত্তিপ্রস্তরের নামফলক ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, যা স্থানীয়দের মাঝে হতাশা তৈরি করেছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক-কর্মচারী দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী মহিন উদ্দিন মানিক বলেন, অতীতে তাকে বদলি করে মোহরা বিভাগে পাঠানো হলে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভিত্তিপ্রস্তরের নামফলক ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা সংরক্ষণ করেছেন। তাঁর ভাষায়, স্বপ্ন ছিল দল ক্ষমতায় এলে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে।
তিনি বর্তমান সরকারের প্রধান, প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার ও পরিকল্পনা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দ্রুত এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামের পানির ঘাটতি দূর করতে হবে এবং অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রকল্পটির বিষয়ে তিনি শুনেছেন, তবে বাস্তবায়ন না হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে অবগত নন। একইভাবে প্রধান প্রকৌশলীও জানান, এটি তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের আগের প্রকল্প হওয়ায় বিস্তারিত তথ্য তাঁর জানা নেই। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমানে কর্তৃপক্ষ এ প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করেছে এবং সময়ের সঙ্গে এর অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে।
দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে থাকা এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে চট্টগ্রামের মতো ঘনবসতিপূর্ণ নগরীতে পানি ব্যবস্থাপনা সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply