গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি বসতবাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৮টি কক্ষ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের প্রায় ৮০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একমাত্র উপার্জনের সম্বল বসতবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব প্রায় বাড়ির মালিক। এখন ছাউনি পুড়া বাড়িতে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন তিনিসহ পরিবারটি।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলের দিকে শ্রীপুর পৌরসভার গড়গড়িয়া মাস্টার বাড়ি এলাকায় গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। এরআগে, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই এলাকার ফখরুদ্দিন মোড়ের আব্দুল কাদিরের মালিকানাধীন বসতবাড়িতে এই আগুনের ঘটনা ঘটে।
বাড়ির মালিক আব্দুল কাদির বলেন,’ রাতের খাবারের প্রস্তুতি চলছিল এসময় খবর পাই আগুনের। প্রথমে একটি কক্ষ থেকে আগুনের সূত্রপাত হলেও মুহূর্তেই আগুন দ্রুত সারিবদ্ধ অন্যান্য কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টার আগুনে বসতবাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়।’’
তিনি আরও বলেন,’ আমার সম্বল হিসেবে বসতবাড়িই ছিল। দ্বার দেনা করে বাড়িটি বানিয়েছিলাম। এখন সেটাও পুড়েছে। এখন পরিবার নিয়ে হতাশায় নিমজ্জিত আমি এখন হাতে টাকা না থাকায় ঘরগুলো মেরামতের ব্যবস্থা নেই আমার। তাই এভাবেই বসবাস করছি।’
স্থানীয়রা জানান, বাড়ির ২কক্ষে মালিক নিজে থাকে এবং বাকি ১৬টি কক্ষ ভাড়া দেওয়া ছিল। ওই ঘর গুলো ভাড়া দিয়েই সংসার চলতো আব্দুল কাদিরের। আগুনে ঘরের জানালা-দরজা, আসবাবপত্র, নগদ টাকাসহ সব মালামাল পুড়ে গেছে। এখন পরিবারটি নিঃস্ব প্রায়। তাদের পাশে দাঁড়ানো দরকার।
ভাড়ায় থাকা কারখানার শ্রমিকরা জানান, আগুনে তাদেরও মালামাল শেষ হয়ে গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলতে থাকা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে সরকারি বা বেসরকারি সাহায্যের অপেক্ষা করছে।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে গাজীপুর-৩ আসনের সাংসদ অধ্যাপক ডাঃ রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। ইতোমধ্যে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে যোগাযোগ করেছেন তিনি।
মাওনা ফায়ার সার্ভিসের ওয়ার হাউজ ইন্সপেক্টর নুরুল করিম বলেন,” আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মোমবাতি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। আমরা প্রতিবেদন তৈরি করে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করবো।’’
Leave a Reply