সারা দেশে চলমান জ্বালানি তেলের সাময়িক সংকটের প্রেক্ষাপটে যখন সরকার নির্ধারিত বিধিনিষেধ অনুযায়ী সীমিত পরিসরে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, ঠিক সেই সময় চট্টগ্রাম নগরজুড়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে চোরাই জ্বালানি তেলের সিন্ডিকেট। সংকটের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সড়কের পাশেই গড়ে উঠেছে অবৈধ তেলের দোকান, যেখানে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল খোলাবাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির সরবরাহকৃত তেলবাহী গাড়ি বিভিন্ন পাম্পে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে তেল চুরি করা হচ্ছে। পরে এসব তেল নগরীর বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিদিন শত থেকে হাজার হাজার লিটার জ্বালানি তেল এভাবে অবৈধভাবে হাতবদল হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এই চক্রের সঙ্গে প্রভাবশালী মহল এবং কিছু অসাধু কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। বিষয়টি গণমাধ্যমে একাধিকবার উঠে এলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে তেল পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা বাধ্য হয়ে চড়া দামে চোরাই তেল কিনছেন। খোলাবাজারে এসব তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৭০ থেকে ২০০ টাকা কিংবা তারও বেশি নেওয়া হচ্ছে।
কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক জানান, পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অনেক সময় তেলই পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে বেশি দামে হলেও রাস্তার পাশের দোকান থেকে তেল কিনতে হচ্ছে।
এছাড়া পাম্পগুলোতেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত লাইনে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও প্রভাবশালীদের মাধ্যমে সিরিয়াল ভেঙে তেল নেওয়া, এমনকি গাড়ি ছাড়াও ড্রাম বা বোতলে তেল সরবরাহের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালায় অনুমোদন ছাড়া জ্বালানি তেল মজুদ, পরিবহন বা বিক্রি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। তাছাড়া নিরাপত্তার দিক থেকেও খোলা স্থানে তেল বিক্রি অগ্নিকাণ্ডসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।
এদিকে, জরুরি দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকদের জন্য জ্বালানি তেল সংগ্রহে বিশেষ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রামের গণমাধ্যমকর্মীরা। তারা বলেন, সংকটকালীন সময়ে সংবাদ সংগ্রহে নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট কোটা বা আলাদা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর নজরদারি, সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় সংকটের সুযোগ নিয়ে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম আরও বিস্তার লাভ করতে পারে।
Leave a Reply