গাজীপুরের শ্রীপুরে মানবাধিকার কর্মী পরিচয়ে ফার্মেসিতে ঢুকে তল্লাশি চালিয়ে নগদ টাকা ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ৫ জনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে জনতা।
এ ঘটনায় ফার্মেসির মালিকের দেওয়া লিখিত অভিযোগটি মামলা আকারে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। এরআগে, শনিবার রাতে পৌর এলাকার বেড়াইদের চালা আসওয়াদ গেটের সামনের মেহেদী হাসানের ফার্মেসী থেকে তাদেরকে আটক করে পুলিশে দেয় জনতা।
মামলার বাদী রাজীব আহমেদ শ্রীপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি দক্ষিণ ভাংনাহাটি হ্যামস সংলগ্ন ‘রৌদ্র মেডিসিন সেন্টার’- নামক দোকান দিয়ে ঔষধ বিক্রি করেন।
স্থানীয় লোকজন ও থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,’ গত ১০ ডিসেম্বর দুপুরের দিকে ইয়াসমিন বেগমের নেতৃত্বে আল আমিন, মোতাসিম, আসাদুজ্জামান আপন, শাওন, নাইমা খান, ফাতেমা, মোস্তাফিজুর রহমান ও সাইফুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩জন ব্যক্তি রৌদ্র মেডিসিন সেন্টার’- ফার্মেসিতে প্রবেশ করেন। তাঁরা নিজেদের মানবাধিকার কর্মী পরিচয় দিয়ে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই দোকান তল্লাশি শুরু করেন এবং ওষুধের মেয়াদ যাচাই করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা দোকানের ক্যাশ বক্সে থাকা নগদ ১১ হাজার টাকা, দোকানে থাকা মোবাইল কার্ড ৯ হাজার টাকা এবং প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধপত্র, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ হাজার টাকা নিয়ে যান।
অভিযোগকারী রাজিব আহমেদ বলেন,’অভিযুক্তদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তিনি তাঁদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তাঁরা কোনো পরিচয়পত্র প্রদর্শন না করে দ্রুত দোকান ত্যাগ করে চলে যায়। এতে আমার দৃঢ় বিশ্বাস হয় অভিযুক্তরা ভুয়া মানবাধিকার কর্মী পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। বিষয়টি আমি আমাদের ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করে রাখি। এছাড়াও ঘটনা সম্পর্কে আমাদের সংগঠনের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়। এ ঘটনার ২দিন পর অর্থাৎ শনিবার দুপুরের দিকে বেড়াইদের চালা আসওয়াদ গেটের তৌসিফ ফার্মেসীতে একই কায়দায় তল্লাশী শুরু করে। এসময় ওই ফার্মেসীর মালিক আমাদের সংগঠনের লোকজনকে অবহিত করলে সকলেই ওই ফার্মেসীতে আসি। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাদেরকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। রাতেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। এ ঘটনার বিচার চাই।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন,’ মানবাধিকার কর্মী হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লোকজন ছাড়া কিংবা প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছাড়া কারো ঔষধের দোকান তল্লাশি করা আইনগত বৈধ নয়। আগেও কয়েকটি দোকানে এমন করেছে বলে বেশ কয়েকজন আমাদেরকে জানিয়েছে। সেদিনের ঘটনায় ভুক্তভোগীর দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা হয়েছে। এ মামলায় তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়।’
Leave a Reply