মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নায়ক গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ (নেভাল সিরাজ) সড়ক নামকরণের ফলক উন্মোচন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে নরসিংদীর পাঁচদোনা স্যার কৃষ্ণ গোবিন্দ ( কে.জি) গুপ্ত স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে এ উপলক্ষে এক বিরাট মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পাঁচদোনা-ডাঙ্গা-ঘোড়াশাল সড়কটি বীর প্রতীক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ (নেভাল সিরাজ) এর নামে নামকরণ করা হয়। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এর অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রাণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রাণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক বক্তব্য রাখেন। অন্যান্যর মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, বীর প্রতীক নেভাল সিরাজ এর ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন, নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন, পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান আহমেদ, ফকির আবুল কালাম আজাদ ও তোফাজ্জল হোসেন মাষ্টার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্য উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, নেভাল সিরাজকে তার ভিন্ন মতালম্বীরা অত্যন্ত সু কৌশলে হত্যা করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের পর মাত্র একটি বছরও তিনি বেচে থাকতে পারেনি। অতীতের সরকারগুলো তার কোন খোঁজখবর নেয়নি। এমনকি তার পরিবার ও ছেলেমেয়েদের খোঁজখবরও কেউ নেয়নি। এতিমখানায় থেকে তার ছেলে মেয়েরা জীবন ধারণ করেছে। এর থেকে লজ্জার আর কি হতে পারে। তিনি বলেন নেভাল সিরাজের মত বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধার জন্মের কারণেই এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল। বিজয়ের মাসে নেভাল সিরাজ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়নি পূনঃজাগরিত হয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বলেন, স্বাধীনতার সময় একটি স্বীকৃত প্রবাসী সরকার দায়িত্বে ছিলেন। তাদের সক্রিয় প্রচেষ্টায় আমরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম এবং এ দেশের তরুণরা রনাঙ্গনে পঙ্গুপালের মত যুদ্ধ করে মাত্র নয় মাসে এদেশ স্বাধীন করেছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কখনো মুছে যাবে না। এ স্মৃতি চির অম্লান থাকবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ছুটিতে থাকাকালে বিদ্রোহ ঘোষণা করে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটন ও পরিচালনায় আত্মনিয়োগ করেন নেভাল সিরাজ। ৯ ও ১০ এপ্রিল ইপিআরের সাথে মিলে বাগবাড়ি- পালবাড়ি-পাঁচদোনায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তুলেন নেভাল সিরাজ। অতপর তিনি বিশাল অস্ত্র সম্ভার গড়ে তুলেন। ছাত্র যুবকদের সংগঠিত করে তার নিজ গ্রাম নেহাবকে কেন্দ্র করে এই সড়কেরই দুই পাশের জনপদে মুক্তিযোদ্ধাদের অপ্রতিরোধ্য ঘাটি গড়ে তুলেন। আর এ ঘাটি এলাকা থেকে পাঁচদোনা মোড়সহ অসংখ্য মুখামুখি যুদ্ধ ও গেরিলা অপারেশন পরিচালনা করেন। তার বীরত্বের কথা দিগি¦দিক ছড়িয়ে পড়ে। তিনি কিংবদন্তি বীরের খ্যাতি অর্জন করেন। দেশ স্বাধীনের পর তার এ আকাশ চুম্বি খ্যাতি শাসক রাজনৈতিক গোষ্ঠির ঈর্ষার কারণ হয়ে দাড়ায়। তাদের ষড়যন্ত্রেই ১৯৭২ সালে ২৬ সেপ্টেম্বর আড়াইহাজার থানার পুরিন্দায় গুলিবিদ্ধ হন বীর প্রতিক নেভাল সিরাজ।
Leave a Reply