1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ দুই বছরের প্রকল্পে লাগছে ৮ বছর - দৈনিক আমার সময়

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ দুই বছরের প্রকল্পে লাগছে ৮ বছর

অনলাইন ডেস্ক
    প্রকাশিত : শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পে ধীর গতি বিরাজ করছে। ২ বছরে এটি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও এখন লাগবে সাড়ে ৮ বছর। ফলে একদিকে যেমন ব্যয় বেড়েছে, অন্যদিকে প্রকল্পটির সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দেশবাসী। এখন শেষ পর্যায়ে এসে নতুন করে এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। কিন্তু চতুর্থবার হওয়ায় বিষয়টি খতিয়ে দেখে ৯ শর্তে সময় বাড়ানোর সুপারিশ দিয়েছে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। পরিকল্পনা কমিশন জানায়, প্রকল্পটির মূল মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু নানা জটিলতায় তৃতীয় দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয় ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু এতেও শেষ হয়নি। এবার চতুর্থবারের মতো ব্যয় বৃদ্ধি না করে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ১ বছর সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ২৬৫ কোটি ৪৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু প্রথম সংশোধনের মাধ্যমে ৪৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ ব্যয় বাড়িয়ে ধরা হয় ৩৯৭ কোটি ৩৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রকল্পের আওতায় খরচ হয়েছে ২৫৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭৫ শতাংশ। পাশাপাশি বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৯০ শতাংশ। এটি বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।

আইএমইডির সাবেক সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, যে কোনো প্রকল্প তৈরির সময়ই যদি সঠিক পরিকল্পনা না হয় তাহলে বাস্তবায়ন পর্যায়ে অবশ্যই জটিলতা তৈরি হবে। এ প্রকল্পটিও তার ব্যতিক্রম কিছু নয়। প্রশ্ন হলো শেষ সময়ে কেন নতুন কার্যক্রম যোগ করতে হবে? যদি একান্তই প্রয়োজন থাকে তাহলে শুরুতেই যুক্ত থাকা উচিত ছিল। যারা প্রকল্প তৈরি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এগুলো তাদের গাফিলতির ফল। প্রকল্প তৈরি হবে, সংশোধন হবে এটাই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

সূত্র জানায়, ১ বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবের পর ২৬ জুন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন আইএমইডির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হালিমুজ্জামান তরফদার। তার দেওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে ৯টি শর্ত দিয়েছে সংস্থাটি। এসব প্রতিপালন করলে তবেই মেয়াদ বাড়ানো হবে। এগুলো হলো-প্রথমত, প্রকল্পের প্যাকেজ ৩ থেকে ৬ এর আওতায় পূর্ত খাত কাজ সংস্কারের মধ্যে স্বাধীনতা জাদুঘরের অডিটরিয়ামের আনুষঙ্গিক কাজ করতে হবে। এছাড়া জাদুঘরের চারপাশে ওয়াটার বডির সংস্কার, লাইট ফিটিং, গ্লাস টাওয়ারে প্লাজা লাইট স্থাপন, জাদুঘরের অডিও ভিজ্যুয়াল সিস্টেম সংস্কার এবং আন্ডারগ্রাউন্ড জাদুঘরের জন্য এয়ারকুলার স্ক্র চিলার স্থাপন করতে হবে। ভূগর্ভস্থ ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম সরবরাহ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ৭ মার্চের ভাষণ ও ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক স্থান দুটিতেই ইতিহাসভিত্তিক পরিচিতিসহ খোদাইকৃত মার্বেল পাথরে স্মৃতিফলক স্থাপন করতে হবে। এছাড়া আন্ডারগ্রাউন্ড কার পার্কিংয়ে ফেন্সিং ব্রিক, পেভমেন্ট টাইলস, স্যানিটারি ফিটিংসের অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে হবে। তৃতীয়ত, প্যাকেজ-৪ এর আওতায় আরবরিকালচার ও ল্যান্ড স্ক্যাপিংয়ের কাজ বর্ধিত মেয়াদের মধ্য শেষ করতে হবে। চতুর্থত, শাহবাগ থানা নির্মাণের কাজটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দিয়ে তাদের মাধ্যমেই ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) তৈরি করে নতুন থানা নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। পঞ্চমত, বর্ধিত এক বছর মেয়াদে কাজের কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতি ৩ মাস অন্তর আইএমইডিকে অবহিত করতে হবে। ষষ্ঠত, ২০২২-২৩ অর্থবছরের একটি অডিট আপত্তি করে ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের অডিট শেষ করতে হবে। সপ্তমত, প্রকল্পের তথ্য নিয়মিত ই-পিআইএমএস সফটওয়্যারে হালনাগাদ করতে হবে। অষ্টমত, পরিপত্রের নির্দেশনা ডিপিপির সংস্থান অনুযায়ী প্রকল্পে প্রতি অর্থবছর ৪টি করে মোট ৩০টি পিআইসি ও পিএসসি সভার মধ্যে মাত্র ১১টি করে হয়েছে। বাকিগুলো নিয়মিত শেষ করতে হবে। নবমত, ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশগুলোর ওপর সুনির্দিষ্ট গৃহীত ব্যবস্থা আইএমইডিকে বাধ্যতামূলক জানাতে হবে।

সঠিক সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণ সম্পর্কে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় জানায়, ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) শাহবাগ থানার নতুন ভবন নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু স্থান নির্ধারণ না হওয়ায় সেটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। নির্মাণাধীন অন্যান্য কাজের কিছু সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন নতুন কাজ যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ায় প্রকল্পটি শেষ করা যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com