1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
আল্লামা সুলতান যওক নদভী রহ. এর কর্মময় জীবন আলোচনা সভা - দৈনিক আমার সময়

আল্লামা সুলতান যওক নদভী রহ. এর কর্মময় জীবন আলোচনা সভা

আনোয়ার হোসেন রাব্বানী
    প্রকাশিত : সোমবার, ২৮ জুলাই, ২০২৫

আল্লামা সুলতান যওক নদভী রহ. এর কর্মময় জীবন আলোচনা সভায় মাওলানা সরোয়ার কামাল আজীজী
ইসলাম মানবজাতিকে অধঃপতনের অন্ধকূপ হতে
তুলে মান-মর্যাদার উচ্চতম স্থানে স্থাপন করেছিল
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি’র আমীর মাওলানা সরোয়ার কামাল আজীজী বলেছেন, মুসলমানরা তাদের স্বর্ণযুগে বিজিত দেশসমূহে জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় ব্যাপক উৎকর্ষ সাধন করেছিলেন। মুসলিম শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায় বহু দার্শনিক, বৈজ্ঞানিক, চিকিৎসক, সাহিত্যিক, জোতির্বিদ প্রভৃতি মনীষী জ্ঞানবিজ্ঞানের সর্বক্ষেত্রে অপূর্ব উন্নতি সাধন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে, ইউরোপের নবজাগরণ এবং আধুনিক বিজ্ঞানের উন্নতি সাধন তাদেরই সুচিন্তিত গবেষণা ও দূরদর্শিতার ফসল। বিশ^ কৃষ্টি ও সভ্যতার ইতিহাস সর্বাধিক মানসিক জাগরণ ও বৈজ্ঞানিক উন্নতি সাধন একমাত্র ইসলামের দ্বারাই সংঘটিত হয়েছিল। নানান উত্থান ও পতনের মধ্য দিয়ে মানবজাতি যখন ইতিহাসের পথ অতিক্রম করছিল, বিশে^র মানুষ যখন নানা অত্যাচার ও অনাচারে জর্জরিত হচ্ছিল, জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চা যখন ছিল অবহেলিত ও অন্যায় কাজ, সেই যুগসন্ধিক্ষণে ইসলাম শান্তি ও সভ্যতার আলোকবর্তিকা নিয়ে পৃথিবীর বুকে আবির্ভূত হয়। ইসলাম মানবজাতিকে অধঃপতনের অন্ধকূপ হতে তুলে মান-মর্যাদার উচ্চতম স্থানে স্থাপন করেছিলÑ শিক্ষার আলো দিয়ে সারা পৃথিবীকে আলোকিত করেছিল। আমরা স্পেনের মুসলমানদের অভূতপূর্ব সভ্যতার কথা উপলদ্ধি করতে পারি এবং তাদের প্রতিভালোকে নিখিল বিশ^ আলোকিত করে।

তিনি গতকাল বিকালে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে আল্লামা সুলতান যওক নদভী রহ. এর কর্মময় জীবন আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, আল্লামা মুহাম্মদ সুলতান যওক নদভী রহ. শীর্ষ স্থানীয় বুজুর্গ আলেম ছিলেন। তিনি ছিলেন প্রতিভাবান ব্যক্তিদের প্রতিচ্ছবি। কর্মবীর ছিলেন। তিনি একটি নাম নয়, তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। তিনি ছিলেন স্বভাব কবি, তাকে সম্মানসূচক ডিগ্রী দিয়েছিলেন নদভী। তিনি আধ্যাত্মিক পুরুষ ছিলেন। আন্তরিকতার ছোয়ায় তার জীবনকে আলোকিত করেছিল। সুন্নতের প্রতি ছিলেন তিনি পাবন্দ। দারুল মারিফ মাদরাসা এই জাতির জন্য তিনি একটি উপহার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি একটি প্রাচীন ইসলামী রাজনৈতিক দল। এটি মূলত ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেমদের দ্বারা গঠিত এবং তাদের লক্ষ্য হলো ইসলামী মূল্যবোধ ও নীতির আলোকে দেশ পরিচালনা করা। ১৯৫২ সালে পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) এর কিশোরগঞ্জ জেলায় জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের একটি শাখা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে, এটি একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশের একটি প্রাচীনতম ইসলামী রাজনৈতিক দল।

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরের আমির শায়খুল হাদীস মাওলানা জিয়াউল হুসাইনের সভাপতিত্বে ও হাফেজ মাওলানা আনোয়ার হোসেন রাব্বানীর পরিচালনায় মাওলানা মো: ইব্রাহিমের কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে সূচিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেব বক্তব্য রাখেন, নায়েবী আমীর আবদুর রহমান চৌধুরী, মুফতি নুরুল আমিন, হাফেজ তাজুল ইসলাম, পীরে তরিকত হিজবুল্লাহ, আলেমী দ্বীন মুফতি হারুন, হাফেজ জাকারিয়া খালেদ, ফোরকানুল্লাহ খলিল, মুহাদ্দিস এনামুল হক মাদানী, মুহাদ্দিস নুর আনোয়ারী, মাওলানা আলম, মাওলানা আবদুল আজিজ, সাংবাদিক ওসমান গণি, সাংবাদিক মিজানুর রহমান চৌধুরী, সাংবাদিক সাইফি আনোয়ারুল আজিম, মুফতি হাবিবুল্লাহ চৌধুরী, ছাত্র সমাজ নেতা তারিকুল ইসলাম, মো: সাইফুল ইসলাম, রাজনীতিবিদ, ওলামা মাশায়েখ, ছাত্র-জনতা, সাংবাদিক, আইনজীবি ও ইসলামি গবেষক সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, আল্লামা মুহাম্মদ সুলতান যওক নদভী রহ. ছিলেন একজন শীর্ষস্থানীয় ও বুজুর্গ আলেম। তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ছিলেন। এছাড়াও, তিনি জামেয়া দারুল মা’আরিফ আল-ইসলামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও মহাপরিচালক ছিলেন।
আল্লামা মুহাম্মদ সুলতান যওক নদভী ছিলেন একজন বাংলাদেশী ইসলামি পণ্ডিত। তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব ছিলেন। তিনি আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশের সভাপতি এবং বিশ্ব মুসলিম লীগের বাংলাদেশ শাখার প্রধান ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের জামেয়া দারুল মা’আরিফ আল-ইসলামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও মহাপরিচালক ছিলেন। আল্লামা সুলতান যওক নদভী রহ. এর ইন্তেকালে ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা, দাওয়াত ও তাবলিগ অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।

বক্তারা আরো বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ একটা মুসলিম রাষ্ট্রে যদি মুসলমানরাই অবহেলিত থাকে, তাদের চাহিদা এবং দাবিই অপূর্ণ থাকে, তবে এই রাষ্ট্রের উন্নতি-অগ্রগতি কোনদিনও সম্ভব না। বাক স্বাধীনতার নামে যদি মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত করা হয়, সেটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। অনতিবিলম্বে ইসলামবিরোধী অপতৎপরতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com