চাকরি স্থায়ীকরণের এক দফা দাবিতে রংপুরে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (BATB)-এর ফিল্ড টেকনিশিয়ান (এফটি) ও কর্মচারীরা মানববন্ধন, অবস্থান ও প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন। দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে কোম্পানির হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেও স্থায়ী চাকরির সুযোগ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রংপুরে আয়োজিত কর্মসূচিতে ফিল্ড টেকনিশিয়ান ও কর্মচারীরা অংশ নেন। এ সময় **‘শ্রমিকের মর্যাদা, সবার অঙ্গীকার’**সহ বিভিন্ন স্লোগানে কর্মসূচি মুখর হয়ে ওঠে।
আন্দোলনকারীরা জানান, তাদের অনেকেই দীর্ঘ ১৫–২০ বছর ধরে BATB-এর বিভিন্ন কার্যক্রমে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তামাক চাষের মৌসুমে কৃষকদের সঙ্গে চুক্তি, বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ, অগ্রিম ঋণ বিতরণ, কৃষকদের কারিগরি সহায়তা, চাষাবাদ তদারকি, তামাক পাতা সংগ্রহ ও মান নিয়ন্ত্রণসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন তারা।
এ ছাড়া তামাক পাতা কিউরিংয়ের জন্য চুল্লি প্রস্তুত ও তদারকি, কোম্পানির ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে কৃষি কার্যক্রম পরিচালনা এবং কৃষকদের বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার দায়িত্বও পালন করতে হয় বলে জানান কর্মীরা।
তাদের দাবি, তামাক মৌসুম শেষ হওয়ার পরও কাজ থেকে অব্যাহতি মেলে না। সামাজিক বনায়ন, বৃক্ষরোপণসহ কোম্পানির বিভিন্ন কার্যক্রমে বছরের অন্যান্য সময়েও তাদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। অর্থাৎ বছরের প্রায় পুরো সময়ই কোম্পানির কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে রাখা হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও স্থায়ী কর্মীদের তুলনায় তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নিয়মিত বেতন বৃদ্ধি, গ্র্যাচুইটি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, শ্রমিক কল্যাণ তহবিলসহ চাকরিসংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা না থাকায় তাদের মধ্যে ভবিষ্যৎ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কর্মীদের আরও অভিযোগ, চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে আন্দোলন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার পর বিভিন্ন অঞ্চলের কয়েকজন কর্মীকে দূরবর্তী এলাকায় বদলির নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মীদের মধ্যে চাকরিচ্যুতি ও প্রশাসনিক হয়রানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তারা জানান।
আন্দোলনকারীরা বলেন, ‘একই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ১৫–২০ বছর কাজ করার পরও যদি চাকরির নিশ্চয়তা না থাকে, তাহলে একজন কর্মী তার পরিবার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কীভাবে নিরাপদ থাকবেন—এটাই আমাদের প্রশ্ন।’ অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘ কর্মকাল বিবেচনায় নিয়ে চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সিং ব্যবস্থা বাতিল করে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ফিল্ড টেকনিশিয়ান ও কর্মচারীদের সরাসরি কোম্পানির স্থায়ী পে-রোলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তারা।
কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (RDA) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সামসুজ্জামান সামু উপস্থিত হন। পরে তিনি প্রতীকী অনশনরত কর্মীদের মুখে জুস তুলে দিয়ে প্রতীকী অনশন ভাঙান।
এ সময় বক্তারা বলেন, বছরের পর বছর কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করা কর্মীদের চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা মানবিক ও ন্যায়সংগত দাবি। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কর্মীদের স্থায়ী পে-রোলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কোম্পানি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
কর্মীদের এক দফা দাবি—চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সিং প্রথা বাতিল করে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত সব ফিল্ড টেকনিশিয়ান ও কর্মচারীর চাকরি স্থায়ী করা।
দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দেন কর্মীরা। প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান তারা।
Leave a Reply