1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
সরকারে যুক্ত হতে পারেন মাহিদুর-ড. ফয়েজউদ্দিন - দৈনিক আমার সময়

সরকারে যুক্ত হতে পারেন মাহিদুর-ড. ফয়েজউদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
    প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

সরকারি কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করতে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে রদবদল এবং নতুন কয়েকজন উপদেষ্টা নিয়োগের গুঞ্জন উঠেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী যেসব মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট নন, সেসব মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আনার কথা ভাবছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে বহির্বিশ্বে ফ্যাসিবাদবিরোধী জনমত গঠনে ভূমিকা এবং উন্নত দেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন কয়েকজন ব্যক্তিকে সরকারে যুক্ত করার বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনায় থাকা ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন সিলেটের দুই কৃতি সন্তানের নাম। তাঁরা হলেন ব্রিটেনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিন, এমবিই এবং যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহিদুর রহমান। বিএনপির রাজনীতিতে মাহিদুর রহমান পরিচিত মুখ হলেও ড. ফয়েজ উদ্দিন তুলনামূলকভাবে নেপথ্যের মানুষ।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশে ব্যাংকার হিসেবে পেশাজীবন শুরু করার পর আশির দশকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান ড. ফয়েজ উদ্দিন। পরে তিনি বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলে যোগ দেন। সেখানে দীর্ঘ তিন দশক কেন্দ্রীয় সরকার, স্থানীয় সরকার, পুলিশ প্রশাসন, অর্থ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি, বিশেষ করে বৃহত্তর বার্মিংহামে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা উদ্যোগেও ভূমিকা রাখেন। সূত্রের দাবি, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ যুক্তরাজ্যে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চায় সরকার। সে ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার, অর্থ, পরিকল্পনা, স্বরাষ্ট্র অথবা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যেকোনো একটিতে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন তিনি। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য সহ ইউরোপে বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতিকে মজবুত ও ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখায় উপদেষ্টা বা মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় এসেছে মাহিদুর রহমানের নাম। যুক্তরাজ্য বিএনপি এবং দেশটিতে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশি তাঁদের এই অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন প্রত্যাশা করছেন।

 

জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে খুব পরিচিত মুখ না হলেও বিএনপির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দলটির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নেপথ্যে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ দলের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত বিএনপির কাউন্সিল উপলক্ষে প্রকাশিত দলীয় ইশতেহার প্রণয়নেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর প্রস্তাবিত বেশ কয়েকটি সময়োপযোগী ধারণা ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন বেগম খালেদা জিয়া। এ ছাড়া, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিরোধী দল ও মতের বাক্‌স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে তিনি একাধিকবার যুক্তরাজ্যের তৎকালীন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ এবং ব্রিটিশ সরকারের কাছে চিঠি দেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব উদ্যোগ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্ব পায় এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে ভূমিকা রাখে।

 

উল্লেখ্য, সামাজিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ রাজপরিবার প্রতিবছর বিভিন্ন ব্যক্তিকে নানা সম্মাননা প্রদান করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো Member of the Order of the British Empire (MBE)। ড. ফয়েজ উদ্দিন ২০১২ সালে এই সম্মাননায় ভূষিত হন। দলীয় সূত্রের ভাষ্য, তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আস্থাভাজনদের একজন। জন্মসূত্রে সিলেটের সন্তান হলেও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি বগুড়ার সঙ্গেও আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে তাঁর। তাঁর চিকিৎসক সহধর্মিণীর জন্ম বগুড়ায়। এ ছাড়া তাঁর বড় ভাই ডা. আলাউদ্দিন বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং উপদেষ্টা ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com