ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার অন্তর্গত ১নং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম একজন চৌকস অফিসার। তিনি কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা সংস্থায় থাকাকালে জেলায় ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছিলেন। কুমিল্লায় তিনি অপরাধীদের কাছে জ্বলাময়ী আতঙ্ক ছিলেন। এছাড়া তিনি ডিএমপি সহ গাজীপুর জেলাতে সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করেছেন।ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম ১নং পুলিশ ফাঁড়িতে ইনচার্জ হিসাবে যোগদানের বেশ কিছুদিন পর গত ১৭ জানুয়ারি ট্রাংকপট্রি এলাকায় এসএস কমপ্লেক্সের কিরন জুয়েলার্স এর দোকানে কেচিগেইট ও সাটারের তালা ভেঙ্গে ৩০ ভরি স্বর্ণ ও ৫০ ভরি রোপাসহ প্রায় ৩২ লাখ পঁয়ত্রিশ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। এতে তিনি বিব্রত অবস্থায় পড়ে যান। ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম একজন দক্ষ ও যোগ্যতা সম্পন্ন চৌকস অফিসার। কুমিল্লায় ডিবিতে থাকাকালে সকল সফলতা দেখলেই বুঝা যায়-অপরাধীদের দ্রুত সনাক্ত ও ঘটনার রহস্য উদঘাটন খুব সহজেই তিনি করে ফেলতেন। মামলার সংক্রান্ত সকল কাজে শহিদুল ইসলাম ছিলেন সফল। ময়মনসিংহেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। তিনি তার টিম নিয়ে স্বর্ণ চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা চোর সিন্ডিকেটের ৪ সদস্য মানিক মিয়া, রুবেল মিয়া, ইয়াছিন আরাফাত ও মোঃ জসিমকে গ্রেফতার করেন এবং গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ৫ ভরি ৮ আনা ৩ রতি ৭ পয়েন্ট স্বর্ণ উদ্ধার করেন। যার বাজার মূল্য অনুমানিক ৪ লাখ ৮৬ হাজার ১৫৪ টাকা।গত ফেব্রুয়ারি মাসে ১নং পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় মোটরসাইকেল চুরির হিড়িক পড়ে যায়। একের পর এক পুলিশ ফাঁড়িতে ইনচার্জ শহিদুল ইসলামের কাছে মৌখিক অভিযোগ আসতে থাকে। এতে তিনি বিচলিত হননি। তিনি চোরদের সনাক্ত করে গাজীপুর জেলার জয়বদেবপুর থানার সিড়ির চালা কাইয়াপাড়া এবং ব্রাহ্মনবাড়িয়ার কসবা থানার গোপীনাথপুর বংশীপাড়া এলাকায় তার টিম নিয়ে অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৪ সদস্য মো. আরিফুল ইসলাম, পিয়াল হাসান, আসাদুল ইসলাম ও মুসা মিয়াকে গ্রেফতার করেন। এ সময় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ৪টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।এছাড়া গত ২১ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ রেলষ্টেশনে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে রেলযাত্রী হত্যা ঘটনায় ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলামের উপর চাপ বেড়ে যায়। তিনি ঘটনার বিষয়ে বিবিধ তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে তার টিম নিয়ে ৫নং কালিবাড়ি রোডস্থ জনৈক আমিনুল হক শামীম এর পরিত্যক্ত বাড়ীতে ঝোঁপঝাড়ের ভিতরে অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় অজ্ঞাতনামা মূল আসামী মোহাম্মদ আলীকে নেশা করা অবস্থায় হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত হোল্ডিং চাকুসহ গ্রেফতার করেন।গত ফেব্রুয়ারি মাসে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের মূল হোতাদের গ্রেফতারসহ মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং রেলওয়ে স্টেশনে চাঞ্চল্যকর রেলযাত্রী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও অজ্ঞাতনামা মূল ঘাতক গ্রেপ্তারে উল্লেখযোগ্য সফলতায় গত ১৮ মার্চ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম ও তার টিমকে সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করেন জেলা পুলিশ সুপার মাসুম আহমেদ ভূঞা।দক্ষতা ও যোগ্যতায় সম্মাননা পুরস্কারে ভূষিত হলেন ১নং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম ও তার টিম। ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলামের কাছে সম্মাননা পুরস্কার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুযোগ্য রেঞ্জ ডিআইজি ও সুযোগ্য পুলিশ সুপারের সকল দিকনির্দেশনা যথাযথ পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। স্যারদের দিকনির্দেশনা কাজে লাগিয়ে সকল সফলতা পেয়ে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও স্যারদের দিকনির্দেশনা সঠিকভাবে পালনে আরো সফলতা আসবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
Leave a Reply