কক্সবাজারে রামু মডেল থানা পুলিশ ও ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে অস্ত্র ও গুলি তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার।
৫ জানুয়ারি( সোমবার) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামু থানা পুলিশে ও ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্পের যৌথ একটি আভিযানিক দল ঈদগড় ইউনিয়নের আবু আহম্মদ গুনা ফাতেমা ছড়া নামক গহীন পাহাড়ি এলাকায় অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র তৈয়ারির কারখানায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই সময় বিপুল পরিমাণ গুলি ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনার সাথে জড়িত ৩/৪ জন ব্যক্তি পালিয়ে যায়। উদ্ধারকৃত গুলি ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদি সকালের দিকে জব্দ তালিকামূলে জব্দ করা হয়।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সনাক্তকরণ ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে এ সংক্রান্তে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান পুলিশ। পাহাড়ি এলাকায় অপরাধীদের দমনে পুলিশের এমন তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একদল অপরাধী গহীন পাহাড়ে অবস্থান নিয়ে দেশীয় অস্ত্র তৈরি করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার জনাব এ.এন.এম সাজেদুর রহমানের নির্দেশনায় এবং রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়ার তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়।
রামু থানা ও ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্পের সমন্বয়ে গঠিত এই যৌথ দলে নেতৃত্ব দেন এসআই (নিঃ) মোঃ খোরশেদ আলম, এএসআই মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, এএসআই মিলন বড়ুয়া, এএসআই রবিউল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোর্স।
উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ২টি তাজা রাইফেলের গুলি, ৪টি শর্টগানের খালি খোসা, ২টি বন্দুকের বাট, ৩টি বন্দুকের ট্রিগার বক্স, বন্দুকের নল হিসেবে ব্যবহৃত ৬টি পাইপ, ৩টি বন্দুক তৈরির যোগান, ১টি হাওয়ার মেশিন, ২টি বাটাল, ৫টি আড়ি ব্লেড ও ১টি আড়ি ব্লেডের ফ্রেম, ১টি করাত, ১টি হাতুড়ি, ১টি প্লাস, ৭টি ছোট-বড় রেক, ১টি শান দেওয়ার মেশিন, ১টি বানান নালীসহ অসংখ্য অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধারকৃত সরঞ্জামাদি সকাল ০৮:৩০ ঘটিকায় জব্দ তালিকা মূলে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে,তবে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয় নি, জড়িতদের শনাক্ত করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় আইন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
Leave a Reply