বরিশাল নগরী থেকে অনলাইন জুয়ারী চক্রের হোতা ইব্রাহিম আটক
বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশিত :
সোমবার, ২০ মে, ২০২৪
বরিশাল নগরী থেকে ক্রিকেট ও ফুটবল খেলা নিয়ে অনলাইনে জুয়া খেলা চক্রের এক হোতাকে আটক করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ। শনিবার দিনগত রাতে বরিশাল মহানগর পুলিশের সাইবার টিম জুয়া চক্রের হোতাকে আটক করে। রবিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছেন উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিন) মোঃ আলী আশরাফ ভুঞা। আটক ইব্রাহিম খান কামরান বরিশাল নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর কলোনীর বাসিন্দা আবুল কালাম খানের ছেলে। উপ-পুলিশ জানান, কামরান অনলাইন জুয়ায় ব্যবহার করা পয়েন্ট ক্রয়-বিক্রয়ের এ্যাপস “টুসকি” এর বরিশাল অঞ্চল প্রধান। বরিশাল অঞ্চলে অনলাইনে জুয়া খেলা চক্র আরমানের মাধ্যমে লেনদেন করতো। তিনি জানান গত ১৫ দিন ধরে মহানগর পুলিশের সাইবার টিম অনলাইন জুয়ারীদের দলের বিষয়ে তদন্ত করে। তারা একটি অনলাইন জুয়ারী টিম শনাক্ত করে। এ টিমের প্রধান কামরানকে আটক করা হয়েছে। উপ-পুলিশ কমিশনার আরো বলেন কামরানকে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে ২০২১ সাল থেকে সে অনলাইনে জুয়ার সাথে জড়িত। অঞ্চল প্রধান হিসেবে ২০২১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সে কয়েক কোটি টাকা লেনদেন করেছে। তাকে আটক করার পর ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যেই দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার মতো তার বিকাশে এসে জমা হয়েছে। তার বিকাশ নম্বরের লেনদেনের রেকর্ড এনেছি। কয়েকশ পৃষ্ঠা পেয়েছি। শুধু তার লেনদেন। যেটা অকল্পনীয় ও অস্বাভাবিক। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন গ্রেপ্তারের পর কামরানের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। তার এ মোবাইল বা ডিভাইস চেক করে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল তার দলে ৭৫ জনের মতো রয়েছে। যার সবসময় অনলাইনে জুয়া খেলে। আর সে সে একটি অ্যাপস ব্যবহার করে। যেখানে সে বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক বা ম্যানেজার হিসেবে পরিচিত। উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন ফুটবল ও ক্রিকেট খেলা নিয়ে বাজি ধরে। এ জন্য পয়েন্ট প্রয়োজন হয়। এ্যাপসের মাধ্যমে পয়েন্ট কেনা-বেচা করে কামরান। তরুন ও যাদের কাজ কর্ম নেই, তারা এই জুয়া খেলায় ঝুকছে জানিয়ে বলেন বিভিন্ন দোকানে ও বাসা বাড়ীতে বসে জুয়া খেলছে তারা। এ চক্রটি এতই শক্তিশালী যে একজনকে আটকের খবর মুহুর্তে অন্যরা জানতে পেরেছে। তারা তাৎক্ষনিক এলাকা ও বাসা-বাড়ী ছেড়ে পালিয়েছে। আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে। তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, কামরানের বিরুদ্ধে ৩০-৩৫ লাখ টাকার প্রতারণা করার একটি মৌখিক অভিযোগও রয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোতয়ালী মডেল থানার ওসি এটিএম আরিচুল হক, পরিদর্শক বিপ্লব কুমার মিস্ত্রি, এসআই মিরাজ মোল্লা সহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ।
Leave a Reply