চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) বন্দর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি দেশীয় তৈরি একনলা এলজি (বন্দুক) উদ্ধার এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সিএমপির বন্দর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আমিরুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনায়, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (বন্দর জোন)-এর তত্ত্বাবধানে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুর রহিমের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মো. কামাল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ২৭ জুলাই ২০২৬ রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে বন্দর থানাধীন ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাশেম সওদাগর মসজিদের বিপরীতে বন্দর ২ নম্বর গেটের পূর্ব পাশে পাকা সড়কে চেকপোস্ট ডিউটি পরিচালনা করেন।
এ সময় একটি সিএনজি অটোরিকশা তল্লাশি করতে গেলে দুই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. মিজানুর রহমান ওরফে বাবুল (৫২) এবং মো. শহিদুল আলম ওরফে সোহাগ (৪৭)।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মিজানুর রহমানের ডান কাঁধে থাকা একটি ছাই রঙের ব্যাগ তল্লাশি করে একটি দেশীয় তৈরি একনলা এলজি (বন্দুক) এবং একটি ছাই রঙের কাঁধ ব্যাগ, যার গায়ে ইংরেজিতে adidas লেখা ছিল, উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এলজিটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ ইঞ্চি। এর মধ্যে লোহার অংশ ১৫ ইঞ্চি এবং কাঠের বাটের দৈর্ঘ্য ৫ ইঞ্চি। রাত ১১টা ৩০ মিনিটে আলামত জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা পরস্পর জ্ঞাতসারে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় ধর্তব্য অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া থানার অজ্ঞাত স্থান থেকে অস্ত্রটি সংগ্রহ করে নিজেদের হেফাজতে রাখার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় বন্দর থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত মো. মিজানুর রহমান ওরফে বাবুলের স্থায়ী ঠিকানা চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার পানিচরতী এলাকায়। বর্তমানে তিনি বন্দর থানাধীন পোর্ট কলোনির রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমির রেলওয়ের পরিত্যক্ত বাসায় বসবাস করতেন। অপর গ্রেপ্তারকৃত মো. শহিদুল আলম ওরফে সোহাগের স্থায়ী বাড়ি ফেনীর ছাগলনাইয়া থানার পূর্ব শিমুল এলাকায়। বর্তমানে তিনি বন্দর থানার পোর্ট কলোনির রোড নং-৩, বাসা নং-৫৮/সি (তানভীরের বাসা)-এ বসবাস করতেন।
পুলিশের সিডিএমএস (CDMS) পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মো. মিজানুর রহমান ওরফে বাবুলের বিরুদ্ধে ডবলমুরিং মডেল থানা ও বন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলাসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে।
অপরদিকে, মো. শহিদুল আলম ওরফে সোহাগের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৯/৪০২ ধারায় একটি এবং ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(৩) ধারায় একটি মামলাসহ মোট দুটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
Leave a Reply