1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার - দৈনিক আমার সময়

ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
    প্রকাশিত : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণাই সকল সম্প্রীতির ভিত্তিভূমি

তথ্যমন্ত্রী

 

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার – মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিভূমি। ধর্মীয় পরিচয় নয়, বাংলাদেশি পরিচয়ই আমাদের সর্বজনীন পরিচয়। ধর্ম, বর্ণ কিংবা সম্প্রদায়ের বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে দেশপ্রেম ও জাতীয় স্বার্থকে ধারণ করেই একটি অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

 

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল ১০টায় বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ, বরিশাল জেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, কিছু গোষ্ঠী ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়। তারা ধর্মের পবিত্র অনুভূতিকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিস্বার্থে কাজে লাগিয়ে সমাজে বিভাজন, বিদ্বেষ ও অস্থিরতা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালায়। এ ধরনের অপতৎপরতা শুধু ধর্মের মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ন করে না, বরং জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতিকেও দুর্বল করে।

 

তিনি বলেন, ধর্ম কখনো বিভাজনের শিক্ষা দেয় না। সব ধর্মই মানবতা, শান্তি, সহমর্মিতা ও নৈতিকতার শিক্ষা দেয়। যারা ধর্মের নামে বিদ্বেষ ছড়ায় কিংবা জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদকে উৎসাহিত করে, তারা প্রকৃতপক্ষে ধর্মের আদর্শের পরিপন্থী কাজ করে।

 

মন্ত্রী বলেন, অতীতে জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। আজও স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় সংহতি রক্ষার স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। পাহাড়, সমতল, ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই ভূখণ্ডে কোনো ধরনের বিভাজনের রাজনীতি স্থান পেতে পারে না। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ – যে কোনো ষড়যন্ত্র সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে।

 

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রধর্ম কিংবা ধর্মীয় মূল্যবোধের অপব্যাখ্যা দিয়ে যদি কেউ মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়, তবে তা মানবতা ও সৃষ্টিকর্তার আদর্শের বিরোধী। প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবেন, পাশাপাশি অন্য সব ধর্মাবলম্বীর প্রতি সমান শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্য প্রদর্শন করবেন। এটাই বাংলাদেশের ঐতিহ্য, এটাই আমাদের জাতীয় সংস্কৃতি।

 

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাংবাদিক বাসুদেব ধরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ বরিশাল জেলা সভাপতি শ্রী মুকুল চন্দ্র মুখার্জী, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সন্তোষ শর্মা এবং বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি শ্রী মানিক মুখার্জী কুডু। অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বী সুধীজন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com