1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
ছোট গর্তেই বড় ঝুঁকি, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের শ্রীপুর অংশে আতঙ্ক - দৈনিক আমার সময়

ছোট গর্তেই বড় ঝুঁকি, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের শ্রীপুর অংশে আতঙ্ক

আলফাজ সরকার, গাজীপুর
    প্রকাশিত : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
দেশের অন্যতম ব্যস্ততম ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের শ্রীপুর অংশজুড়ে ছোট ছোট গর্ত সৃষ্টির ফলে চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন পথচারী ও যানবাহন চালকেরা। দিনে গর্তের পাশ কাটিয়ে গেলেও রাতের বেলায় বৃষ্টির পানিতে গর্ত ঢেকে থাকায় মোটরসাইকেল আরোহীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। হালকা উপকরণে নামমাত্র সংস্কার তেমন কাজেই আসছে না। তাই, জীবনের ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি স্থায়ী ভাবে সংস্কার ও নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবহন চালক ও সড়ক ব্যবহারকারীরা।
বুধবার (৩০ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের শ্রীপুর পৌর এলাকার গড়গড়িয়ে মাস্টারবাড়ি, আনসারমোড়, সিএনবি,মাওনা চৌরাস্তা,উপজেলার জৈনা বাজার,নয়নপুর, এমসি বাজারসহ একাধিক এলাকায় গর্তগুলো এখন সড়কের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। মাওনা চৌরাস্তা উড়ালসেতুর ওপরেও কয়েকটি স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে থাকায় প্রকৃত অবস্থা বোঝা যায় না। ফলে দ্রুতগতির যানবাহন গর্তে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে।এমসি বাজার এলাকায় প্রতিদিন দীর্ঘ যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে। যানবাহনের ধীরগতির চলাচল, ভাঙাচোরা অংশ এড়িয়ে গাড়ি চালানোর চেষ্টা এবং ভারী যানবাহনের চাপের কারণে ওই এলাকায় যাত্রীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা অভিযোগ করে বলেন, মাঝেমধ্যে হালকা উপকরণ দিয়ে ওইসব গর্ত মেরামত করার কিছুদিনের মধ্যেই সেগুলোর পাশেই আবার গর্ত সৃষ্টি হয়। তাই,স্থায়ী সংস্কার না করার আগ পর্যন্ত এমন ঝুঁকি চলতে থাকবেই।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বলেন,’ এতো ব্যস্ততম একটি মহাসড়কে এতো গর্ত যা যাত্রীদের জীবনের জন্য ঝুঁকি।  দিনের বেলায় গর্তগুলো কোনোভাবে এড়িয়ে চলা গেলেও রাতে পানি জমে থাকায় গর্ত দেখা যায় না। এতে বিভিন্ন যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।’
মাসুম বিল্লাহ নামের এক মোটরসাইকেল চালক বলেন,’ গতির কারণে বুঝতে না পেরে অনেকেই গর্তে আটকে ছিটকে পড়ছেন। দেখতে ছোট গর্ত হলেও এগুলোই বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
বাস চালক রমজান আলী বলেন,’এ সড়কে নিয়মিত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে গর্তগুলো ভেঙে গিয়ে আরও বড় হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে মেরামত না করলে বৃষ্টির দিনে মহাসড়কের অবস্থা আরও খারাপ হবে। তাই, প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
গাজীপুরের আব্দুল আউয়াল ডিগ্রি কলেজের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি  বিষয়ের প্রভাষক হাবিবুর রহমান বলেন,’ দেশের ব্যস্ততম এই মহাসড়ক সর্বাবস্থায় নিরাপদ রাখা জরুরি। যদিও বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে প্রবেশ করলে এবং ভারী যানবাহনের চাপে বিটুমিন ও পাথরের স্তর আলগা হয়ে যায়। এতেই কিছু কিছু  স্থানে দ্রুত গর্তের সৃষ্টি হয়। তবে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সময়মতো মেরামত করা গেলে এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি।’
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার প্রয়োজনে সড়ক ও জনপথ বিভাগের গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহাম্মেদের ব্যবহৃত সরকারি নাম্বারে ফোন দিলে তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে আছেন বলে একজন রিসিভ করে জানান।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের গাজীপুরের উপসহকারী প্রকৌশলী তারিক হোসেন বলেন,’ গর্তের বিষয়ে নজরে আসার পর ইতোমধ্যে সংস্কারের জন্য ঠিকাদারের মাধ্যমে লোক নিয়োজিত রয়েছে। পশ্চিম পাশের কাজ আগে ধরা হচ্ছে। জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন,’বর্ষাকালে স্থায়ী সংস্কারকাজে কিছুটা জটিলতা থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ গর্তগুলো দ্রুত ভরাটের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে স্থায়ী সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com