1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
গ্যাস সংকট: শ্রীপুরে পাম্পে দীর্ঘ সারি, বাসাবাড়িতে রান্নায় দুর্ভোগ, ব্যাহত শিল্প উৎপাদন - দৈনিক আমার সময়

গ্যাস সংকট: শ্রীপুরে পাম্পে দীর্ঘ সারি, বাসাবাড়িতে রান্নায় দুর্ভোগ, ব্যাহত শিল্প উৎপাদন

আলফাজ সরকার, গাজীপুর
    প্রকাশিত : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
গাজীপুরের শ্রীপুরে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। হঠাৎ গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা দিচ্ছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। একই কারনে বসতবাড়ি ও শিল্প কারখানায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
রোববার (২আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে ফিলিং স্টেশন গুলোতে দেখা যায়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক গ্যাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। শ্রীপুরের ক্যাপটেন সিএনজি, কাজী সিএনজি, পলক সিএনজি ও মফিজ সিএনজি পাম্প ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়ে।
জানা যায়, গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কম থাকায় প্রতিটি স্টেশনের সামনে শত শত সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারিতে থেকে অপেক্ষা করে। একটি গাড়িতে গ্যাস নিতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি সময় লাগছে বলে জানান চালকরা। আর এ কারনেই যানবাহনের সারি দীর্ঘ হচ্ছে।
এদিকে গ্যাস সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাসাবাড়িতেও। দিনের বেলায় বেশির ভাগ সময়ে গ্যাসের চাপ কম থাকায় রান্নায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন গৃহিণীরা। সঠিক সময়ে খাবার নিয়ে কর্মস্থলে যেতে পারছেন না অনেক কর্মজীবি মানুষ।
অন্যদিকে গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানা গুলোতে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক কারখানায় বয়লার ও জেনারেটর স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কারখানার মালিকরা। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি সময়মতো ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ নিয়েও শঙ্কায় আছেন। এমন চলতে থাকলে শিল্প খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে বলেও জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহন চালক ও  শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের দাবি, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল শ্রীপুরে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। তারা দ্রুত সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।
মনির হোসেন নামের এক গাড়ি চালক বলেন,’ ভোর রাতে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও প্রয়োজনীয় গ্যাস পাইনি।গ্যাস সংকটের কারণে কর্মঘণ্টার বড় একটি অংশ ফিলিং স্টেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে কাটাতে হয়েছে। সারাদিন যাত্রী পরিবহন করবো কেমনে..?
জোসনা খাতুন নামে পৌরসভার গড়গড়িয়া মাস্টার বাড়ি এলাকার এক গৃহিণী বলেন,’ গভীর রাতে গ্যাসের কিছুটা চাপ পাওয়া গেলেও সকাল থেকেই কমতে থাকে। একপর্যায়ে রান্না করতেই পারিনা। অবশেষে বাধ্য হয়ে এলপিজি গ্যাস ব্যবহার করছি।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিল্প মালিকরা জানান,’ আমরা নানামুখী সংকট আছি। বলতে গেলেও রাজনৈতিক ইস্যূ মনে করে। গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকটে আমাদের কারখানায় উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। সঠিক সময়ে পণ্য দিতে না পারায় ভাইয়াররা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। কারন, সময়মতো তাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি শ্রমিকদের বেতন পরিশোধেও চাপ তৈরি হয়। আমরা উভয়সংকটে পড়েছি।’
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জৈনা বাজার এলাকার আহাম্মদ ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার রফিকুল ইসলাম বলেন,’ এখানে আমাদের কিছুই করার নেই। গ্যাসের চাপ কম।  আর তাই লাইন দীর্ঘ হয়। আগে একটি গাড়িতে ৩’শ থেকে ৪’শ টাকার গ্যাস দিতে পারতাম, এখন সর্বোচ্চ ২’ শ টাকার বেশি দিতে পারছি না।’
তিতাস গ্যাস গাজীপুর আঞ্চলিক অফিসের ম্যানেজার (অপারেশন) প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান জানান,’শ্রীপুর ও মাওনা এলাকার শিল্পকারখানাগুলোতে ধনুয়া টিবিএস (টাউন বোর্ড স্টেশন) থেকে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এ স্টেশনে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকায় এসবএলাকায় গ্যাসের চাপ হ্রাস পেয়েছে। এটা শুধু শ্রীপুরের সমস্যা না। সরবরাহ ঘাটতির কারণে টঙ্গী, জয়দেবপুর, কোনাবাড়ীসহ গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিকের তুলনায় কম। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে শ্রীপুরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতেও গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হয়ে আসবে। পরিস্থিতির উন্নয়নে তিতাস গ্যাস সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। আশা করছি স্বাভাবিক হবে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com