কক্সবাজার তিন কিলোমিটার সৈকতজুড়ে কেবল মানুষ আর মানুষ। সাপ্তাহিক ছুটিতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে নেমেছে পর্যটকের ঢল। পর্যটকেরা পরিবার পরিজন নিয়ে সমুদ্রের নোনাজলে সমুদ্রস্নানে মেতে উঠেছে। কেউ ঘোড়ায়, কেউ জেট স্কি আবার কেউ বিচ বাইকসহ নানা রকম রাইডে চড়ে পার করছেন সময়। শনিবার ২৯ আগস্ট কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দেখা গেছে এই চিত্র। তাঁদের আনন্দে বেমালুম ভুলে গেছেন লাল পতাকার সতর্কতা। পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত লাইফ গার্ডের বাঁশিও কানে তুলছেনা অনেকে।
শনিবার বিকেলে সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়- শত-শত নারি-পুরুষ সাগরের বড় বড় ঢেউকে আলিঙ্গন করে সমুদ্র স্নানে মেতে উঠেছেন। বালুচরে মানুষের উপচে পড়া ভিড় আর শিশুদের উচ্ছ্বাস-সব মিলিয়ে যেন উৎসবের আমেজ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে। পর্যটকরা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি ঘুরে বেড়াচ্ছেন দীর্ঘ ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভের একাধিক বিনোদন স্পটে।
পর্যটকেরা জানিয়েছেন, সাপ্তাহিক ছুটিতে তারা পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে বেঁচে নিয়েছেন। সমুদ্রে গোসলের পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভ সড়কের সৌন্দর্য, হিমছড়ি, ইনানী, পাটোয়ারটেকসহ নান্দনিক স্পট দেশের আর কোথাও পাওয়া যায় না।
ঢাকা গাজিপুর থেকে আসা পর্যটক রফিকুল আলম বলেন, ”প্রতি বছর কক্সবাজারে আসা হয়। এবারেও পরিবার নিয়ে এসেছি। কক্সবাজার ভ্রমন খুবই আনন্দময়। তিনি বলেন, শুক্রবার বিকেলে কলাতলী একটি হোটেলে রুম নিয়েছি। দুই দিনের জন্য ৯ হাজার টাকা নিয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। শনিবার সকালে মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে ইনানী পর্যন্ত গিয়েছি। ভালো একটা সময় কেটেছে।”
সুগন্ধা বিচে কথা হয় রাজশাহী থেকে আসা আকাশ- ফারজানা দম্পতির সাথে।তারা জানান, ”আমরা দুজনেই চাকুরীজীবি। গত বছর থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি, সুযোগ পেলে কক্সবাজার চলে আসবো, অবশেষে আসা হলো। তবে, সৈকতের পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ আছে এই দম্পতির। তারা বলেন, এতবড় একটা সৈকত, ময়লা আবর্জনায় ভর্তি। ঘোড়া, গরুর মলমূত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে চারিদিকে। ”
চট্টগ্রামে চকবাজার ডিসি রোড থেকে আসা রোকন উদ্দিন বলেন, ”গত বৃহস্পতিবার ২৫ জনের একটা টিম কক্সবাজারে এসেছি। সুগন্ধায় একটি হোটেলে উঠেছি। আমরা প্রতি বছর বন্ধু বান্ধব মিলে কক্সবাজারে আসি। এবারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রাতের জোৎস্না আলোতে সৈকতের বালিয়াড়িতে বসে সমুদ্র দেখা, অসাধারণ একটা অনুভূতি। সব মিলিয়ে আমাদের কাছে কক্সবাজার ভ্রমণটা খুবই উপভোগ্য ও আনন্দদায়ক মনে হচ্ছে।”
জানা যায়, গেল বুধবার ২৬ আগস্ট ঈদ-এ মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সরকারি ছুটি ছিল। পরের দিন বৃহস্পতিবার অনেকে আগে থেকেই ছুটির আবেদন করে রাখেন। একারণে বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ৪দিন টানা ছুটি কাটাতে কক্সবাজারে এসেছিলেন লাখো পর্যটক। কক্সবাজারে চার শতাধিকের হোটেল মোটেল ও গেস্ট হাউজ ছিল পরিপূর্ণ।
এদিকে পর্যটকের ভিড়ে বেচাকেনায় জমজমাট সৈকতপাড়ের দোকানপাট। বাড়তি ব্যস্ততা দেখা গেছে ঘোড়াওয়ালা, বিচ বাইক ও জেটস্কি চালকদের মধ্যেও। পর্যটকদের আনাগোনায় বাড়ছে তাদের কর্মচাঞ্চল্য ও আয়-রোজগার।
কক্সবাজার হোটেল -মোটেল গেস্ট মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, ঈদ-এ মিলাদুন্নবীর একদিনের বন্ধের সাথে অনেকে বৃহস্পতিবারও ছুটি কাটিয়েছেন। সবমিলিয়ে চারদিন বেড়ানোর সুযোগ পেয়েছে পর্যটকেরা। এই লম্বা ছুটি কাটাতে এক সপ্তাহ আগে থেকে অগ্রিম রুম বুকিং দিয়ে রেখেছে অনেকে। শুক্রবার ও শনিবার কক্সবাজারে চার শতাধিক হোটেলের ৯০ শতাংশ বুকিং ছিল। হোটেল ব্যবসায়ীরা ভালো ব্যবসা করেছে। তিনি বলেন, একটা সময় গেছে বর্ষাকালে কক্সবাজারে পর্যটক মোটেও আসতো না। ছুটির দিনে ১৫ শতাংশ পর্যটক আসতো। কিন্তু, যতদিন যাচ্ছে কক্সবাজারে পর্যটক বাড়ছে। বলতে গেলে এখন বারো মাসেই পর্যটক থাকে কক্সবাজার।
Leave a Reply