1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
মুখে যদি ঘা হয় - দৈনিক আমার সময়

মুখে যদি ঘা হয়

অনলাইন ডেস্ক
    প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০২৫

মুখগহ্বরের অভ্যন্তরের ত্বকে হতে পারে এক ধরনের ঘা, যা অ্যাপথাস আলসার নামে পরিচিত। এ রোগটিতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। যন্ত্রণায় রোগী অনেক সময় খেতেও পারে না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অ্যাপথাস আলসার দেখা দেয় গাল ও ঠোঁটের ভেতরের অংশে। কিছু ক্ষেত্রে মাড়ি এবং জিভেও এ প্রদাহ হতে দেখা যায়।

লক্ষণ

অ্যাপথাস আলসার কয়েক ধরনের হতে পারে। রোগের প্রকোপ ও পর্যায় অনুযায়ী আলসারের আকৃতি ও রং ভিন্ন হয় এবং সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে থাকে। প্রকোপ কম হলে মাইনর আলসার আকারে ছোট হয় এবং ঘায়ের রং হয় হালকা হলুদ।
আক্রান্ত স্থানের চারপাশে ফোলা ও লাল হয়। মাইনর আলসারে ব্যথা কম হয় ও দ্রুত সেরে যায়। শুরুতে এটি লাল রঙের হয়ে থাকে। ধীরে ধীরে সেটি সাদাটে হয়ে ওঠে।
ঘায়ের স্থানটি গোলাকৃতির হয়। খাওয়ার সময় স্থানটিতে জ্বালাপোড়ার অনুভূতি হবে। মনে রাখতে হবে, এ রোগটি ছোঁয়াচে নয়।কারণ♦ ঠিকমতো দাঁতের পরিচর্যা না করলে ও নিয়মিত স্কেলিং না করার ফলে মুখে পাথর জমলে এই ঘা হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। পাথর জমলে প্লাক জমার হারও বাড়তে থাকে।

♦ দাঁতের ফাঁকে খাবার পচে থাকলে এবং ঠিকভাবে ব্রাশ না করলেও এটি হতে পারে।

♦ রাতে ঘুম কম হলে অথবা বেশি মানসিক চাপ থেকেও অ্যাপথাস আলসার হতে পারে।

♦ নারীদের হরমোনের লেভেল পরিবর্তনের কারণেও মুখে ঘা হয়।

♦ খেতে গিয়ে মুখের ভেতর অনেকের কামড় পড়ে। আঘাতের স্থানে খোঁচা লাগে, তবে তা ঘায়ে রূপ নিতে পারে।

♦ দাঁত ভেঙে ধারালো হয়ে থাকলে ত্বকে ক্ষত তৈরি হয়ে ঘা হতে পারে।

♦ শরীরে ভিটামিন বি১২, ফলিক এসিড, আয়রনের ঘাটতি থাকলেও মুখে ঘা হতে পারে।

♦ সিগারেট, পান-জর্দা, সাদা পাতা থেকেও মুখে ঘা হয়।

করণীয়

♦ প্রথমত পরিমিত ঘুম এবং বিশ্রাম নিতে হবে।

♦ ঝাল খাবার খাওয়া যাবে না। কোমল পানীয়, অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

♦ কুসুম গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে কুলি করতে হবে।

♦ ভিটামিন বি১২, আয়রন ট্যাবলেট খাওয়া যেতে পারে।

♦ জর্দা-সিগারেট পুরোপুরি বাদ দিতে হবে।

♦ ডেন্টাল সার্জনের কাছে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে।

প্রতিরোধ

♦ ছয় মাস অন্তর স্কেলিং করাতে হবে, দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

♦ নিয়মিত দুই বেলা ব্রাশ করতে হবে এবং রাতে ফ্লসিং করতে হবে।

♦ দাঁতের কোণা ভেঙে ধারালো হয়ে থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

♦ অতিরিক্ত গরম খাবার খাওয়া যাবে না।

♦ মুখের ঘায়ের অনেক রকমফের আছে। ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাবেন না। এতে জটিলতা বাড়তে পারে।

 

লেখক : মাড়ির রোগ বিশেষজ্ঞ

অধ্যক্ষ, খুলনা ডেন্টাল কলেজ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com