মুখগহ্বরের অভ্যন্তরের ত্বকে হতে পারে এক ধরনের ঘা, যা অ্যাপথাস আলসার নামে পরিচিত। এ রোগটিতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। যন্ত্রণায় রোগী অনেক সময় খেতেও পারে না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অ্যাপথাস আলসার দেখা দেয় গাল ও ঠোঁটের ভেতরের অংশে। কিছু ক্ষেত্রে মাড়ি এবং জিভেও এ প্রদাহ হতে দেখা যায়।
লক্ষণ
♦ দাঁতের ফাঁকে খাবার পচে থাকলে এবং ঠিকভাবে ব্রাশ না করলেও এটি হতে পারে।
♦ রাতে ঘুম কম হলে অথবা বেশি মানসিক চাপ থেকেও অ্যাপথাস আলসার হতে পারে।
♦ নারীদের হরমোনের লেভেল পরিবর্তনের কারণেও মুখে ঘা হয়।
♦ খেতে গিয়ে মুখের ভেতর অনেকের কামড় পড়ে। আঘাতের স্থানে খোঁচা লাগে, তবে তা ঘায়ে রূপ নিতে পারে।
♦ দাঁত ভেঙে ধারালো হয়ে থাকলে ত্বকে ক্ষত তৈরি হয়ে ঘা হতে পারে।
♦ শরীরে ভিটামিন বি১২, ফলিক এসিড, আয়রনের ঘাটতি থাকলেও মুখে ঘা হতে পারে।
♦ সিগারেট, পান-জর্দা, সাদা পাতা থেকেও মুখে ঘা হয়।
করণীয়
♦ প্রথমত পরিমিত ঘুম এবং বিশ্রাম নিতে হবে।
♦ ঝাল খাবার খাওয়া যাবে না। কোমল পানীয়, অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
♦ কুসুম গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে কুলি করতে হবে।
♦ ভিটামিন বি১২, আয়রন ট্যাবলেট খাওয়া যেতে পারে।
♦ জর্দা-সিগারেট পুরোপুরি বাদ দিতে হবে।
♦ ডেন্টাল সার্জনের কাছে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে।
প্রতিরোধ
♦ ছয় মাস অন্তর স্কেলিং করাতে হবে, দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
♦ নিয়মিত দুই বেলা ব্রাশ করতে হবে এবং রাতে ফ্লসিং করতে হবে।
♦ দাঁতের কোণা ভেঙে ধারালো হয়ে থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
♦ অতিরিক্ত গরম খাবার খাওয়া যাবে না।
♦ মুখের ঘায়ের অনেক রকমফের আছে। ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাবেন না। এতে জটিলতা বাড়তে পারে।
লেখক : মাড়ির রোগ বিশেষজ্ঞ
অধ্যক্ষ, খুলনা ডেন্টাল কলেজ।
Leave a Reply