1. : admin :
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া - দৈনিক আমার সময়

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া

অনলাইন ডেস্ক
    প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ, ২০২৩
দিদারুল আলম সিকদার, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
১৩ মে ২০২৩ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কক্সবাজার জেলা কমান্ড এর নির্বাচন। বহু প্রত্যাশিত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেড়েছে তৎপরতা।
২৮ মার্চ দুপুরে নির্বাচন সংক্রান্ত গণমাধ্যমের সাথে আলাপনীতে উঠে আসে গুরুত্বপূর্ণ নানা কথা।
বীর মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, এই নির্বাচনে কিছু অসাধু ব্যক্তি এই পবিত্র সংগঠনকে অশুভ উদ্দেশ্যে অবৈধ অর্থের বিনিময়ে গ্রাস করতে চায়। তাদের স্বরুপ উন্মোচনই তাঁদের উদ্দেশ্য। প্রসঙ্গত : হাজী বশিরুল আলম মুক্তিযোদ্ধা নামধারী এক ব্যক্তি শুধুমাত্র অর্থ ও আঞ্চলিকতার অপব্যবহার করে জেলা কমান্ডার পদে প্রার্থী হতে চেষ্টা করছে। ওই ব্যক্তি হাজী বশির প্রকৃত পক্ষে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বিরোধী এক বিষধর সাপ। সরকার প্রদত্ত সুযোগ সুবিধা ও জাতির কাছ থেকে প্রাপ্ত সম্মান এবং মর্যাদার লোভে কৌশলে এই মহান সংগঠনে সে অনুপ্রবেশ করে ২০০৫ সালে। মুক্তিযুদ্ধকালেও সে ও তার চীনপন্থী সংগঠন পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি মহান মুক্তিযুদ্ধকে ‘দুই কুকুরের লড়াই’ বলে প্রকাশ্যে এমনকি আন্তর্জাতিক ভাবে ঘোরতর প্রচারণা চালিয়েছে এবং সমগ্র জাতিকে মুক্তিযুদ্ধ থেকে সরিয়ে নিতে চেষ্টা করছে। মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হাজী বশির ৭১’ এর এপ্রিলের দিকে হজ্জের উছিলায় সৌদি আরব চলে যায় এবং নভেম্বরের শেষ দিকে চকরিয়ায় ফিরে এসে হাজী সাহেব হিসাবে নিরিবিলি জীবনযাপন করে। পরবর্তীতে কয়েক যুগ ধরে মুক্তিযুদ্ধের অপব্যাখ্যায় নিন্দনীয় ভূমিকা পালন করে। সে নিজে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা হয়েও তার অপরাধ বোধ আসেনি বরং সে অপরাধের সীমা লংঘন করে তার স্ত্রী শাহেনা বেগম, ভাই জাফর আলম ও তার শ্বশুর মরহুম আবদুল গণিকে মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, আমরা তাদের গেজেটভূক্ত নাম অপসারণের প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। প্রসঙ্গক্রমে জানাতে হয়, তার স্ত্রী শাহেনা বেগম নাকি মুক্তিযুদ্ধকালে আগরতলার বিশ্রামগন্জে মুক্তিযুদ্ধের ফিল্ড হাসপাতালে নার্স এর কাজ করেছে যা জঘন্য মিথ্যাচার ও হাস্যকর।
গণমাধ্যমের কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা আরো বলেন, তার স্ত্রী শাহেনা বেগম তখন বড় জোর দশ বছর বয়সী একজন স্কুল ছাত্রী তাও চকরিয়ায় স্থায়ী ভাবে বসবাসরত। এই শাহেনা বেগম যদি ভারতে আগরতলার বিশ্রামগন্জে মুক্তিযুদ্ধের ফিল্ড হাসপাতালে যাওয়ার দাবি করে তার প্রতি আমাদের কি পরিমাণ ঘৃণা বর্ষণ করা উচিত ও কি পরিমাণ শাস্তি তার এবং তার স্বামী বশিরুল আলমের প্রাপ্য। আমরা জাতির শ্রেষ্ঠতম সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে এর উপযুক্ত বিচার দাবি করছি। এরপর এই কুখ্যাত হাজী বশির তার শ্যালক জাফর আলমকে বীর মুক্তিযোদ্ধা গেজেটভুক্ত করেছে। অথচ এই জাফর আলম এর বয়স ৭১ সালে বড়জোর ৬ থেকে ৭ বছর। এইরকম জঘন্য জালিয়াতির কি শাস্তি হতে পারে!
আরো উল্লেখ্য যে, মরহুম শ্বশুর আবদুল গণিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা গেজেটভুক্ত করেছে এই ঘৃন্য অপরাধী হাজী বশির। তার শ্যালক আবদুল কাইয়ুমকে গেজেটভুক্ত করার প্রক্রিয়ায় অনেকদূর এগিয়ে গেছে৷ অথচ মুক্তিযুদ্ধকালে বশিরের এই শ্যালকের বয়স ছিলো ৫ থেকে ৬ বছর। নিজে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সক্রিয় ব্যক্তি হয়ে সুযোগ সুবিধা ও সম্মান পাবার লোভের বশবর্তী হয়ে হাজী বশির যে জঘন্য সীমাহীন অপকীর্তি করেছে আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আবেদন – মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে কলুষমুক্ত করতে সকলে প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নিন।
নির্বাচন উপলক্ষে গণমাধ্যমের কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্তকালে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নুরুল আবছার, মোহাম্মদ আলী, সিরাজুল ইসলাম, আবু তাহের, জালাল আহমদ, আবদুল মন্নান, মোঃ কামাল উদ্দিন, মোঃ শাহাব উদ্দিন, নুরুল হক ও মাহবুবুল হক মুকুল প্রমুখ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com