নড়াইল সদরে বহুল আলোচিত ৩ নং চন্ডিবারপুর ইউনিয়ন পরিষদ এখন
ভূয়া ওয়ারেশ জ্বাল সনদ ও দূর্নীতির আতুর ঘরে পরিনত। যার নৈপথ্যে জড়িত খোদ সরকারের নিযুক্ত ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, ভূমি অফিসের নায়েবসহ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মেম্বার গন।
সরজমিন ঘুরে তথ্য চিত্তের প্রতিবেদনে উঠে আসে এমনই কিছু জালিয়াত চক্রের প্রধানদের নামের কুকর্মের বিবরণ। এখানেই শেষ নয়, যাদের খপ্পরে পড়ে বেশ কিছু হিন্দু সম্প্রদায় আর্থিক ক্ষতি গ্রস্ত হয়ে ভিটামাটি হারিয়ে হয়েছে সর্ব শান্ত। রাতের আঁধারে সব ফেলে পাড়ি জমিয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে।
জানা যায়, সদর উপজেলার ৩ নং চন্ডিবারপুর ইউনিয়নের বাঁধাল ১৪০ নং মৌজার বাসিন্দা মৃত ধীরেন্দ্র রায় দুই ছেলে শংকর রায় ও মদন রায় কে রেখে মৃত্যু বরন করে। বাবার মৃত্যুর আগে থেকেই ভাই মদন রায় পরিবার পরিজন নিয়ে ভারতে থাকায়, আর এক ছেলে শংকর রায় স্ত্রী দুই কন্যা সন্তান ও মাকে নিয়ে নিজ গ্রাম বাঁধালে অবস্থান করছেন।
নিজ মায়ের সরলতার সুযোগে শংকর রায় অভিনব কায়দায় আপন ভাই মদন রায়কে জমির শরিক ফাঁকি দিতে ইউনিয়ন পরিষদের নায়েব,ও বর্তমান পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, দায়িত্ব প্রাপ্ত সচিব মো: জাহিদ শেখসহ পরিষদের মেম্বার ওসিকুল এর সাথে মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে উল্লেখিত পরিষদের কাছ থেকে ভূয়া ওয়ারেশ সনদ দিয়ে গত ২৭/০৪/২০২৫ তারিখে শংকর রায় নিজের নামে অনলাইনের মাধ্যমে নাম জারির আবেদন করে। যার কেস নং ১২০০২-( 1 X -1 ) ২০২৪-২৫।
এরই ধারাবাহিকতায় শংকর রায় নিজ ভিটা বাড়ির সকল জমি তারই কাকাতো ভাই বিশ্বজিৎ রায় (বিশু) পিতা নিলু রায়ের কাছে ০.০৯ শতাংশ এবং পার্শ্ববর্তী শুকলা রায় স্বামী রবিন রায় ০.০৬ শতাংশ মোট ১৫ শতাংশ জমি গত ০২/১২/২০২৫ ডিসেম্বর একক মালিকানা সত্তে ৯৩৬৫ নং দলিল মুলে বিক্রি করে সব টাকা নিজে আত্মসাৎ করে শংকর রায় তার স্ত্রী মেয়েদের শশুর বাড়ি টাবরা গ্রামে রেখে মাকে নিয়ে গত ৮ মার্চ দালাল মারুফাত অবৈধভাবে ভারতে পালিয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনা জানাজানি হলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা কিছু সাংবাদিক বৃন্দ ছুটে যাই প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাবির কাছে। সেখানে তার কাছে ভূয়া ওয়ারেশ সনদ দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন এবিষয়ে আমি কিছু জানিনা। তবে ৬ নং ওয়ার্ডে মেম্বার ওসিকুল জানতে পারে। পরিষদের দায়িত্ব প্রাপ্ত সচিব জাহিদ কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এটা জ্বাল বা ভূয়া ওয়ারেশ সনদ। এই ওয়ারেশ সনদ আমরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেয়নি।
পরে বাঁধাল গ্রামে শংকর রায়ের বাড়িতে যাই। এ-সময় শংকর রায়কে বাড়িতে পাওয়া না গেলেও কথা হয় তার নিজ মা, শাশুড়ী স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানদের সাথে। এদের মধ্যে শংকর রায়ের স্ত্রীর কাছে জমি বিক্রির বিষয় টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, দাদা আমরা খুব চাপে আছি তাই কোন কুল কিনারা না পেয়ে আমার দেবর মদন কে বাদ রেখে টাকা পয়সা খরচ করে সব জমি বিক্রি করে দিয়েছি বিশু রায়,ও শুকলা রায়ের কাছে। তবে জমি বিক্রির টাকার অংশ আমরা ভারতে গিয়ে মদন রায়কে দিয়ে দেবো।
শংকর রায়ের মা বলেন, আমি কি করবো আমার ছেলে শংকর তার স্ত্রী ও শাশুড়ী বলেছে এখানের অবস্থা ভালো না, তাই আমরা সব কিছু বিক্রি করে ভারতে মদনের কাছে চলে যাবো। সেখানে মদন আমাদের জন্য জমি কিনেছে, আমরা সবাই একসাথে থাকবো।
এ ঘটনায় গত ৬ মার্চ সহকারী ভূমি (এ্যসিল্যান্ড) নড়াইল সদর কে এইচ এম আফিকুর রহমান এর কাছে একটি লিখিত অভিযোগে ভূয়া ওয়ারেশ সনদ দিয়ে কিভাবে অনলাইনে নামজারি করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবিষয়ে আমি কিছু জানিনা। তবে যেহেতু লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
Leave a Reply