1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
ধামরাইয়ে অটোরিকশা চালক সায়েদুর রহমান হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন : দুই আসামি গ্রেফতার - দৈনিক আমার সময়

ধামরাইয়ে অটোরিকশা চালক সায়েদুর রহমান হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন : দুই আসামি গ্রেফতার

নাজমুল ইসলাম মন্ডল
    প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
পিবিআই ঢাকা জেলা ধামরাইয়ে সংঘটিত অটোরিকশা চালক সায়েদুর রহমান হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে। এ ঘটনায় জড়িত দুই আসামি, সদর আলী এবং আলমগীর-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর ধামরাইয়ের বাইশাকান্দার কেষ্টখালী গ্রামে একটি ধানক্ষেতের পাশ থেকে অজ্ঞাতনামা এক পুরুষের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে তা ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। জানা যায়, ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টা থেকে ২৮ নভেম্বর সকাল ১০:৩০-এর মধ্যে কোনো এক সময় দুষ্কৃতকারীরা ওই ব্যক্তিকে হত্যা করে এবং লাশ ঘটনাস্থলে ফেলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ধামরাই থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-১৫, তারিখ: ২৮/১১/২০২৩) দায়ের করা হয়।
স্থানীয় জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক, যার নাম সায়েদুর রহমান। পরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) ঢাকা জেলার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল এবং পিবিআই ঢাকা জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা, পিপিএম-সেবা-এর তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টিম তদন্ত শুরু করে। তথ্য-প্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন আসামি সদর আলী সোহরাব (৪৭)-কে গ্রেফতার করা হয়।
আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডে আনার পর সদর আলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি আলমগীর (২৫)-কে গ্রেফতার করা হয়।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে দুজনই আদালতে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
পিবিআই-এর তদন্ত এবং আসামিদের জবানবন্দি থেকে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত সদর আলী ও আলমগীর এবং অপর এক আসামি জুয়েল একই বাসায় পাশাপাশি রুমে থাকতেন। সদর আলীর স্ত্রী এবং জুয়েলের মধ্যে একটি অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয়, যার ফলে জুয়েল আলমগীরের সহায়তায় সদর আলীর স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে সদর আলী এবং আলমগীর উভয়ই নিহত সায়েদুর রহমানের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়াতে চেয়েছিল।
পরে নগদ টাকার প্রয়োজন হলে সদর আলী, আলমগীর এবং জুয়েল সায়েদুর রহমানের অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারা সায়েদুর রহমানকে গান শোনার কথা বলে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তারা তার মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে, হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করে। এরপর মৃতদেহ ঘটনাস্থলে ফেলে পালিয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডের পর তারা সায়েদুর রহমানের অটোরিকশাটি ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে সেই টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়।
পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা, পিপিএম-সেবা বলেন, “দায়িত্ব পাওয়ার পর আমরা প্রকাশ্যে ও গোপনে তদন্ত শুরু করি। তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। টাকার লোভে পরিকল্পিতভাবে তারা সায়েদুরকে হত্যা করে তার অটোরিকশা ছিনতাই করে।” তিনি আরও জানান, এই হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িত প্রমাণিত হলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com