চট্টগ্রাম জেলা ডিবি পুলিশের অভিযানে বিদেশি পিস্তল, এলজি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার
চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ধারাবাহিক বিশেষ অভিযানে বহুল আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ওরফে ডেভিড ইমন-সহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী চক্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে উন্নত প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং পেশাদার কৌশলের সমন্বয়ে নিরবচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে জেলা ডিবি পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জুন ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে জেলা পুলিশ নিবিড় তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ জুলাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছ (৪৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের অনুমতিক্রমে দুই দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের মজুদ এবং সহযোগীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।
তদন্তে জানা যায়, ধামা ইলিয়াছ কুখ্যাত সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ মোট ২১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৫টি হত্যা মামলা রয়েছে।
রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্য এবং ধারাবাহিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৯ জুলাই ২০২৬ যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ওরফে ডেভিড ইমন-সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পারে, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে সিএমপি ও চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় খুন, অস্ত্র, চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধে ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া এলাকায় সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের ব্যবহৃত অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ জুলাই ২০২৬ দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে ফটিকছড়ি থানার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাইট্রাল টিলাপাড়ায় মৃত আবুল হোসেনের পরিত্যক্ত বসতবাড়িতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জেলা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসী চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস, অপরাধচক্রের অর্থায়ন এবং তাদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক উদ্ঘাটনে তদন্ত চলমান রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দাভিত্তিক এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেনঃ
১. মো. শামীম (২৮)—পিতা: মৃত আব্দুল মান্নান, মাতা: খোরশেদা বেগম। বর্তমান ঠিকানা: ৯১/১, এ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা। স্থায়ী ঠিকানা: মৈয়শাতুয়া, মনোহরগঞ্জ, কুমিল্লা।
২. মো. মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছ (৪৯)—পিতা: মৃত নুরুল আমিন, মাতা: শাহেরা খাতুন। গ্রাম: কদলপুর, থানা: রাউজান, জেলা: চট্টগ্রাম।
৩. মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ওরফে ডেভিড ইমন (২৫)—পিতা: মৃত মো. মুসা, মাতা: মমতাজ বেগম। গ্রাম: কাঞ্চননগর, থানা: ফটিকছড়ি, জেলা: চট্টগ্রাম।
৪. আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫) পিতা: মো. জাফর, মাতা: তাহামিনা বেগম। ঠিকানা: ২২৭/৩ করিমুল্লাবাগ, পোস্তগোলা, থানা: শ্যামপুর, ঢাকা।
৫. মো. সাফায়েত হোসেন (২৪)—পিতা: মো. বেলায়েত হোসেন, মাতা: লিলি বেগম। স্থায়ী ঠিকানা: সাহারপাড়, থানা: সোনাইমুড়ী, জেলা: নোয়াখালী। বর্তমান ঠিকানা: ২৫/ই, গোলাপবাগ (নিচতলা), থানা: যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
Leave a Reply