1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
‎চট্টগ্রামের আনন্দবাজারে মাছের আড়তে হামলা-অগ্নিসংযোগ, লুট ৮ লাখ টাকা; ক্ষতি ৫ কোটি টাকার বেশি - দৈনিক আমার সময়

‎চট্টগ্রামের আনন্দবাজারে মাছের আড়তে হামলা-অগ্নিসংযোগ, লুট ৮ লাখ টাকা; ক্ষতি ৫ কোটি টাকার বেশি

জাকারিয়া হোসেন, চট্টগ্রাম
    প্রকাশিত : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

২১ জনের নাম উল্লেখসহ মামলা, এক সপ্তাহেও গ্রেপ্তার নেই; অভিযোগ অস্বীকার ১ নম্বর আসামির।
‎চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানাধীন দক্ষিণ মধ্যম হালিশহরের আনন্দবাজার সাগরপাড়ে জেলেদের মাছের আড়তে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নগদ ৮ লাখ টাকা লুটের পাশাপাশি নিজের আড়ত ও মালামাল মিলিয়ে ১ কোটি ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ী মো. আরিফুর রহমান। এ ছাড়া আশপাশের অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতিসহ মোট ক্ষতির পরিমাণ ৫ কোটি ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। ২০২৬ সালের ১০ অক্টোবর দায়ের করা মামলাটির নম্বর ৭। এতে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৪৩, ৩২৩, ৩৮০, ৪৩৬, ৫০৬ ও ৩৪ ধারার উল্লেখ রয়েছে।
‎মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাদী মো. আরিফুর রহমান পেশায় একজন ব্যবসায়ী। আনন্দবাজার সাগরপাড়ে তাঁর মাছের আড়ত রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর আড়ত দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।এজাহারে বলা হয়, গত ৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বাদীর আড়তে গিয়ে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কর্মচারীদের কাছে জানতে চান। কর্মচারীরা তাঁর অবস্থান জানাতে না পারায় তাঁদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় মো. মাইনুল (৩০), মো. সোহেল (৩২), মো. মিরাজ (৩৮), মো. সজীব (২৮) ও দিদারুল আলম বাদশা (৪২) নামের পাঁচ কর্মচারীকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি বাদীকে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।এজাহার সূত্রে জানা যায়, পরদিন ৯ অক্টোবর ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পুনরায় মাছের আড়তে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় বাদীর গদিঘরসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীর মোট ছয়টি গদিঘর ভাঙচুর করা হয়। একই সঙ্গে বাদীর গদির ক্যাশে থাকা নগদ ৮ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে আরও বলা হয়, একই দিন বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পুনরায় ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। একপর্যায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।

‎অগ্নিকাণ্ডে তাঁর আড়তে থাকা মাছ ধরার জাল, ডিজেল, ককসেট, ভাসান জাল, বোটের ইঞ্জিন, কোল্ড স্টোরেজ, আলমারি ও অন্যান্য আসবাবপত্র পুড়ে যায় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
‎নিজের আড়তে ক্ষতি ১ কোটি ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা বাদীর দাবি, হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তাঁর নিজস্ব আড়ত ও মালামালের আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, তাঁর আড়তের পাশাপাশি আশপাশের ব্যবসায়ীদের ছয়টি গদিঘর, একটি মুদি দোকান ও একটি চায়ের দোকানে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আনুমানিক ৪ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আনন্দবাজার সাগরপাড়ের মাছের আড়ত ও আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মোট ৫ কোটি ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন বাদী
‎এ বিষয়ে মামলার ১ নম্বর আসামি অহিদুল আলম খান শারাতের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এখানে চাঁদাবাজি-সংক্রান্ত কোনো ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি রাজনৈতিক কোনো বিষয়ও নয়। বরং একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সমাধানের চেষ্টা করেছি। তিনি আরও বলেন, মূলত ঘটনা ঘটেছে একরকম, কিন্তু সেটিকে রংচং মাখিয়ে আরেকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পুরো ঘটনার খারাপ দিকগুলোর দায় আমার ওপর চাপানো হয়েছে। আমি এ ধরনের চাঁদাবাজির ঘটনা কিংবা কোনো প্রকার অগ্নিসংযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই।অপর দিকে মামলা দায়েরের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ার বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রেজাউল করিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত আছে। মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, অন্যান্য ব্যবসায়ী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com