শরীয়তপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল বাশার হত্যা মামলায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ঢাকা আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার আতাউর রহমানকে আটক করেছে এসআরবি-৮। ২১ অক্টোবর রাতে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানা এলাকা থেকে র্যাব-৮ ও র্যাব-১১ এর যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার এসআরবি-৮ এর সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মাদারীপুর কোম্পানি কমান্ডার সিপিসি-৩ স্কোয়াড্রন লিডার মোঃ আশরাফুল কবির। এসআরবি-৮ দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকার খোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল বাশার বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রী ও অন্যান্য স্বজনের কাছে মারধরের ছবি পাঠানো হয়। একই সঙ্গে চিকিৎসার খরচ বাবদ বিকাশের মাধ্যমে টাকা দাবি করা হয় বলে জানায় এসআরবি-৮। ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শরণাপন্ন হন। পরে ২০ অক্টোবর শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ বাজারসংলগ্ন ঢাকা আবাসিক হোটেলের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে আবুল বাশারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিক্ষকের ভাই ঐ দিনই ভেদরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার সৃষ্টি করলে মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় অভিযুক্তদের শনাক্ত ও আটকের জন্য ছায়া তদন্ত শুরু করে এসআরবি-৮ এর মাদারীপুর শাখা। এসআরবি-৮ জানায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এসআরবি-৮ এবং এসআরবি-১১ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ২১ অক্টোবর রাতে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত আতাউর রহমানকে আটক করে। আটক আতাউর রহমান নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার আফুলশী মিয়াবাড়ী গ্রামের ছালেহ আহম্মদের ছেলে। তিনি শরীয়তপুরের ঢাকা আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এসআরবি-৮ এর মিডিয়া অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার সাথী আক্তার সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
Leave a Reply