দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত না করা, দলিলপ্রতি ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা বাস্তবায়ন এবং দলিল লেখক কাউন্সিল গঠনের অনুমতিসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রংপুরে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে এসব দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে রংপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে যায়। সেখানে নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। পরে মিছিলটি আবার সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় বক্তারা বলেন, দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতির আধুনিকায়ন প্রয়োজন। তবে আধুনিকায়নের নামে দীর্ঘদিন ধরে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত করা যাবে না। আধুনিকায়নের সঙ্গে দলিল লেখকদের পেশাগত অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মানজনক জীবিকার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।
জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি কাজী মো. ওবায়দুল হক বলেন, “দলিল লেখকরা পক্ষগণের সরবরাহ করা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ভিত্তিতে দলিল লেখা ও মুসাবিদার কাজ করে থাকেন। তাই কোনো অনিয়মের ঘটনায় প্রকৃত দায় নির্ধারণ না করে পেশাগত দায়িত্ব পালনকারী দলিল লেখকদের আসামি করা থেকে বিরত থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকতে চাই। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ইতিপূর্বে বড় কোনো সফলতা নেই। তাদের কার্যক্রমের ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে। মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। নামজারি করতে দিনের পর দিন মানুষকে অফিসে যেতে হচ্ছে। তারা জনগণকে পরিপূর্ণ সেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা আধুনিকতা চাই, কিন্তু আমাদের নিয়ে আধুনিকতা করতে হবে। আমাদের পেশাচ্যুত করা যাবে না।”
দলিল লেখকদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত না করা; সাবেক আইনমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দলিলপ্রতি ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা বাস্তবায়ন; লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ছাড়া অন্য কাউকে দলিল লেখা বা মুসাবিদার সুযোগ না দেওয়া এবং এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা।
এ ছাড়া থানা ও জেলা কার্যালয়ে সরকারি খরচে দলিল লেখকদের বসার স্থান ও নামাজের স্থান নির্মাণ, পক্ষগণের সরবরাহ করা কাগজপত্রের ভিত্তিতে দলিল প্রস্তুত করার কারণে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত দলিল লেখককে আসামি না করা, দলিল লেখক সমিতির থানা ও জেলা কমিটির সুপারিশ ছাড়া অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দলিল লেখার লাইসেন্স না দেওয়া এবং দলিল লেখক কাউন্সিল গঠনের অনুমতির দাবিও রয়েছে।
কর্মসূচিতে বক্তারা আরও বলেন, দলিল লেখকদের পেশাগত অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘদিনের সেবাকে বিবেচনায় নিয়ে রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সেবা সহজ করা এবং দলিল লেখকদের পেশাগত অধিকার সুরক্ষার উদ্যোগ নিতে হবে।
এ সময় “৭ দফা দাবি মেনে নাও, নিতে হবে—বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি জিন্দাবাদ” স্লোগান দেওয়া হয়।
এসময় দপ্তর সম্পাদক মোরশেদুল আজিম দূরন্ত
বলেন সরকার যেখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাচ্ছে সকলকে কর্মে নিয়ে আসার শতভাগ চেষ্টা করছে সেখানে ভুমি মন্ত্রণালয় আমাদের পেশাচুত্য করতে গড়মিল করতে প্রচেষ্টা করছে। আমরা সরকার কে রাজস্ব আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছি আমাদের মাধ্যমে সরকার রাজস্ব পাচ্ছে। আর আমাদেরকে পেশাচুত্য করতে চায় এটা কখনো বাস্তবায়ন করতে দিবোনা আমাদের ৭ দফা দাবি মেনে না নিলে আমারা কঠোর থেকে কঠোর আন্দোলনে যাবো। আমরা আধুনিকায়ন চাই আমাদেরকে নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে ৫০ লক্ষ লোক এই পেশার সাথে জড়িত এই পেশার উপার্জনে সকলের পরিবার চলে। তাই সরকারের কাছে ৭ দফা দাবি বাস্তবায়ন করার জন্য আমরা সকলে বলছি।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাপতি কাজী মো. ওবায়দুল হক, রংপুর সদর সভাপতি মো. সরোয়ার আজাদ, জেলা সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর ইবনে শিলু, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসিরুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মো. মোরশেদুল আজিম দুরন্ত, রোকনুজ্জামান রোকন, মোজাহিদুল রাব্বি, পীরগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক তৈবুর রহমান উত্তাল, মিঠাপুকুর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিন সরকার মানিক, মো. তুকলেফুল রহমানসহ রংপুর জেলার সকল উপজেলার দলিল লেখক গন এবং সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ
দলিল লেখক নেতারা তাদের সাত দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।
Leave a Reply