টেকনাফে যুবদল নেতা মোঃ রাসেলকে মিথ্যা মামলায় এবং অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে তার নিঃশর্ত মুক্তি ও সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সুবিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে স্বজন এবং এলাকাবাসী।
গেল সোমবার বিকেলে টেকনাফ মডেল থানা সংলগ্ন প্রেসক্লাবের সামনে প্রধান সড়কে আয়োজিত এই মানববন্ধনে শত শত মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা রাসেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে দাবি করেন।
মানববন্ধনে রাসেলের পরিবারের সদস্যরা তারা দাবি করেন, মোঃ রাসেল একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক এবং সমাজসেবক হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তাকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই গভীর রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পরবর্তীতে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজানো হয়েছে।
রাসেলের ভাই মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, আগামী স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনে ইউপি সদস্য হিসেবে তার ভাই রাসেলের নাম প্রকাশ করা হলে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নামে একটি চক্র।
সাবরাং এলাকার বাসিন্ধা মৌলভী আলম জানান, মোঃ রাসেল একজন পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক কর্মী এবং সামাজিকভাবে অত্যন্ত সচ্ছল ও সম্মানী ব্যক্তি।
সাবরাং ইউনিয়নের ছাত্রদলের সভাপতি জামাল হোসাইন বলেন, মোঃ রাসেল কোনো সন্ত্রাসী বা অপরাধী নয়। তার ঘরে অস্ত্র রাখার বিষয়টি তদন্ত সহকারে খতিয়ে দেখা উচিত।
সাবরাং ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রশিদ মিয়া বলেন, রাসেলকে পরিকল্পিতভাবে ঘর থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর সাজানো মামলা দেওয়া হয়েছে। আমরা তার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। আমরা অনতিবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।
সাবরাং ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আয়াছ উদ্দিন বক্তব্যে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নিলে পরিষ্কার হয়ে যাবে যে রাসেলকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতেই রাসেলকে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে।
প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্তের দাবি এবং অবিলম্বে রাসেলের মুক্তি দেওয়া না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন এলাকাবাসী।
মানববন্ধন শেষে সংবাদ সম্মেলন পরিবারের সদস্যরা বলেন, গত ২৪ এপ্রিল তারিখ রাত আনুমানিক ১টার সময় কোস্ট গার্ডের একটি দল রাসেলের বাড়িতে প্রবেশ করে। পরিবারের সকল সদস্যকে একটি কক্ষে আবদ্ধ করে রাখেন এবং রাসেলকে সাথে নিয়ে যায়; যাওয়ার সময় ঘরের সিসি টিভি ক্যামেরা, হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে যায়। পরে জানতে পারি রাসেলকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাটির নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনা উদঘাটনের দাবি জানান পরিবারের সদস্যরা।
Leave a Reply