1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
চট্টগ্রাম মহানগরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য উদ্বেগজনক, বাড়ছে মোবাইল ক্যাসিনো জুয়ার প্রভাব - দৈনিক আমার সময়

চট্টগ্রাম মহানগরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য উদ্বেগজনক, বাড়ছে মোবাইল ক্যাসিনো জুয়ার প্রভাব

জাকারিয়া হোসেন, চট্টগ্রাম
    প্রকাশিত : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

‎চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, যা নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ক্রমেই অস্থির করে তুলছে। নগরীর অলিগলি থেকে শুরু করে ব্যস্ত সড়ক, প্রায় সর্বত্রই কিশোরদের সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চোখে পড়ছে। মারামারি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদক বাণিজ্যের পাশাপাশি নতুন করে যুক্ত হয়েছে মোবাইলভিত্তিক অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়ার আসক্তি, যা অনেক কিশোরকে দ্রুত অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সহজলভ্য স্মার্টফোন এবং নিয়ন্ত্রণহীন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কারণে তারা খুব সহজেই এসব জুয়া চক্রে জড়িয়ে পড়ছে এবং অল্প সময়ে অর্থ আয়ের লোভে বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ত হচ্ছে।
‎এই সামগ্রিক পরিস্থিতির প্রভাব দৃশ্যমান বন্দর থানাধীন ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড এবং ইপিজেড থানাধীন ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে, যেখানে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ইতোমধ্যে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এলাকাবাসীর দাবি, প্রায় প্রতিদিনই এসব এলাকায় কোথাও না কোথাও মারামারি, হানাহানি কিংবা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ও অনিরাপত্তা বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে স্কুল ও কলেজপড়ুয়া কিছু বিপথগামী কিশোর এসব গ্যাংয়ে জড়িয়ে পড়ায় অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
‎সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পারিবারিক অবহেলা, শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া, মাদকাসক্তি, খারাপ সঙ্গ এবং অবসর সময়ের অপব্যবহার, এসব কারণের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অনলাইন জুয়ার সহজ প্রাপ্যতা, যা কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, মোবাইল ক্যাসিনোতে অর্থ হারিয়ে তারা চাঁদাবাজি বা ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
‎এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান জোরদার করেছে এবং সন্দেহভাজনদের আটকসহ মাদক ও জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। তবে সচেতন মহলের মতে, শুধু অভিযান চালিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, এর জন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।
‎নগরবাসীর প্রত্যাশা, কিশোরদের সুস্থ বিনোদন, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি পরিবারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তদারকি জোরদার করা হলে এই সমস্যার লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হবে। অন্যথায়, চট্টগ্রাম মহানগরে কিশোর গ্যাংয়ের এই বিস্তার ভবিষ্যতে আরও বড় সামাজিক সংকটে রূপ নিতে পারে।৬

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com