1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
বীরগঞ্জে আবারও জেঁকে বসেছে শীত, তীব্র বাতাসের দাপটে স্থবির জনজীবন - দৈনিক আমার সময়

বীরগঞ্জে আবারও জেঁকে বসেছে শীত, তীব্র বাতাসের দাপটে স্থবির জনজীবন

বীরগঞ্জ(দিনাজপুর)প্রতিনিধি
    প্রকাশিত : সোমবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৬
filter: 0; jpegRotation: 90; fileterIntensity: 0.000000; filterMask: 0; module:0facing:0; hw-remosaic: 0; touch: (-1.0, -1.0); modeInfo: ; sceneMode: Auto; cct_value: 0; AI_Scene: (-1, -1); aec_lux: 70.0; hist255: 0.0; hist252~255: 0.0; hist0~15: 0.0;
: দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলায় পৌষের মাঝামাঝিতে
এসে জেঁকে বসছে শীত। প্রচন্ড শীত আর ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে গত তিনদিন ধরে সকালে ঠিক মতো সৃর্যের দেখা মেলেনি।
 ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতে এই অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে। কয়েকদিন ধরে ভোর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকছে এই অঞ্চল। সারা দিনে দেখা মিলছে না সূর্যের। কখনও কখনও একবার দেখা মেললেও তা আবার হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠছে।  ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটছে। উপজেলার মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে চলাচল করছে। এতে কর্মস্থলগামী মানুষ ও দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। তীব্র শীতের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ ও দিনমজুররা। ভোরে কাজে বের হতে না পারায় অনেক শ্রমজীবী মানুষের আয় কমে যাচ্ছে। কৃষিশ্রমিক, রিকশাচালক, নির্মাণ শ্রমিক ও ইট ভাটার শ্রমিকরা শীতের কারণে নিয়মিত কাজে যোগ দিতে পারছেন না। কৃষি খাতেও পড়েছে শীত ও কুয়াশার নেতিবাচক প্রভাব। কৃষকরা জানিয়েছেন, ঘন কুয়াশার কারণে শীতকালীন সবজি ও বোরো ধানের বীজতলায় ছত্রাকজনিত রোগের আশঙ্কা বেড়েছে। কুয়াশার কারণে মাঠে কাজ করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এদিকে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের ভয়ে শিশু ও বাড়ির বয়স্কদের জন্য চলছে আলাদা যত্ন। কেননা তীব্র শীতে সবার আগে অসুস্থ হন বাড়ির বয়োবৃদ্ধ ও শিশুরা। চিকিৎসকরা জানান, শিশু ও বয়স্করা শীতজনিত রোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। তারা শীত থেকে বাঁচতে গরম কাপড় ব্যবহার, কুসুম গরম পানি পান এবং শিশু ও বৃদ্ধদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
বীরগঞ্জ পৌরশহরের পুরাতন শহীদ মিনার চত্বরে রিক্সা চালক সুরেন্দ্র নাথ রায়  জানান, তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশার সঙ্গে কনকনে ঠান্ডার প্রকোপে বেশিরভাগই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সকাল ১০ টার পর তাদের দোকান খুলছেন।শীতের কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো থাকছে ক্রেতা শূন্য। হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা অর্ধেকে নেমে গেছে। গত তিনদিন ঠিক মতো কামাই হচ্ছে না।
 আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাতের তাপমাত্রা উল্লেখ যোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। আগামী কয়েকদিন ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে এবং ভোর ও রাতের দিকে শীত আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দিনাজপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় দিনাজপুর জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা গতকাল রবিবার ছিল ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শনিবার ছিল ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া ১ জানুয়াররি ৯ দশমিক ৭ এবং ২ জানুয়ারি ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। জেলার তাপমাত্রা ৯ থেকে ১২ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে।
জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, দেশের যে কয়টি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে, তার মধ্যে দিনাজপুরও রয়েছে। এবারে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সমান থাকার কারণে রাত-দিন সমান শীত অনুভূত হচ্ছে। আজ মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। এই জেলায় আরো শীত বাড়বে।
বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আফরোজ সুলতানা  জানান, সর্দি-কাশি, জ্বর, নিউমনিয়া এবং ডায়রিয়া ও কলেরা এগুলোই মূলত শীতজনিত রোগ। আর এসব রোগে সবার আগে আক্রান্ত হয় শিশু ও বয়স্করা। এখনও হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগী তেমন ভর্তি না হলেও যেভাবে শীত পড়ছে শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্ন না নিলে এসব রোগীর সংখ্যা বাড়বে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com