গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে।
রোববার উপজেলার বামনডাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত প্রাইম ইভানজেলিষ্টিক চার্চ ট্রাস্টে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে যিশু খ্রিস্টের পুনরুত্থান দিবস উদযাপন করা হয়। সকাল থেকেই চার্চ প্রাঙ্গণে ভিড় করেন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোররা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র বাইবেল পাঠ, বিশেষ প্রার্থনা ও ধর্মীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে যিশু খ্রিস্টের পুনরুত্থানের বার্তা স্মরণ করা হয়। পরে উপস্থিত ধর্মপ্রাণ খ্রিস্টানরা সম্মিলিত প্রার্থনায় অংশ নেন এবং বিশ্ব মানবতার শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রায় দুই হাজার বছর আগে পুণ্য শুক্রবারে যিশু খ্রিস্টকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয় এবং তার তৃতীয় দিন রোববার তিনি পুনরুত্থিত হন। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কাছে এই পুনরুত্থান পাপ ও মৃত্যুর বিরুদ্ধে বিজয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রাইম ইভানজেলিষ্টিক চার্চ ট্রাস্টের পালক পাস্টর নুরুল নওফেল বলেন, “ইস্টার সানডে খ্রিস্টানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এটি আমাদেরকে সত্য, ন্যায় ও মানবতার পথে চলার শিক্ষা দেয়। যিশু খ্রিস্টের পুনরুত্থান মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যের জয় এবং অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর প্রতীক।”
তিনি আরও বলেন, এই উৎসবের মূল শিক্ষা হলো ভালোবাসা, ক্ষমা ও মানবসেবার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা।
উৎসবকে ঘিরে চার্চ প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে অনেকেই একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।
উল্লেখ্য, ইস্টার সানডে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব, যা বিশ্বব্যাপী গভীর শ্রদ্ধা ও উৎসাহের সঙ্গে পালিত হয়ে থাকে।
Leave a Reply